হাতুড়ে ডাক্তারের ভুয়া চিকিৎসা, কেটে ফেলতে হবে শিশুটির হাত

Send
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:১১, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৭, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

বিল্লালমাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় হাতুড়ে ডাক্তার তপন দে’র ভুল চিকিৎসার কারণে প্রথম শ্রেণির ছাত্র বিল্লালের (১০) ডান হাত কেটে ফেলতে হবে। অথচ তার দিনমজুর বাবা আনিসুর রহমান ও চাতাল শ্রমিক মা লিলি বেগমের পক্ষে ছেলের চিকিৎসা করানোর আর্থিক সামর্থ্য নেই। বিল্লাল মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দর সংলগ্ন তাঁতিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে এই ঘটনায় জড়িত ‘টেকেরহাট জেনারেল হাসপাতাল’-এর কথিত চিকিৎসক তপনের বিরুদ্ধে গত ১২ নভেম্বর রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তপন রাজৈর উপজেলার খালিয়া দক্ষিণাপাড়া গ্রামের জুরান দে’র ছেলে।
রাজৈর থানার মামলা ও বিল্লালের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকালে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র বিল্লাল চাতালের পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় পড়ে গিয়ে তার ডান হাত ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে টেকেরহাট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার তপন ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কথিত ডাক্তার তপন ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে বিল্লালের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে হাতে ব্যান্ডেজ করে দেয়। পরিবারের লোকজন এক্স-রে করার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, কোনও এক্স-রে করা লাগবে না।’
ঘটনার দুই দিন পর বিল্লালের হাতের ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে আবারও তপনের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তিনি বিভিন্ন ধরনের খাবার ও এক মাসের ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু এক মাসেও বিল্লালের অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, ভুল চিকিৎসার কারণে বিল্লালের ডান হাত কেটে ফেলতে হবে।
বিল্লালের বাবা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বরিশাল ও ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে বিল্লালের হাত কেটে ফেলতে হবে এই সিদ্ধান্তই জানান চিকিৎসকরা। আমি রাজমিস্ত্রীর কাজ করি, আমার স্ত্রী চাতালের শ্রমিক। আমাদের এমন অবস্থা নেই যে আমার ছেলের চিকিৎসা করাবো। আমি যে মামলা করেছি, তা পরিচালনার অবস্থাও আমার নেই। সরকারি লিগ্যাল এইডে মামলা চালানোর আবেদন করেছি।

বিল্লালের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, হাত ভাঙার পর সে আর স্কুলে যায় না। তার লেখাপড়া বন্ধ। তার হাতে অনেক ব্যথা।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশু বিল্লালের হাত ভাঙার চিকিৎসা সংক্রান্ত মামলায় পেনাল কোডের ৪১৯ ও ৪২০ ধারাসহ বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অ্যাক্ট-২০১০ এর ধারায় মামলা হয়েছে। এই মামলার পর রাজৈর থানা পুলিশ তপনকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে মাদারীপুর আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলাটির তদন্ত চলছে।’

/এআর/

লাইভ

টপ