বান্দরবানে দুই পর্যটকের খোঁজ মেলেনি দুই বছরেও

Send
মো. নজরুল ইসলাম টিটু, বান্দরবান
প্রকাশিত : ১৮:০০, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৮, নভেম্বর ১৬, ২০১৭

নিখোঁজ মুন্না ও জুবায়ের (ছবি- প্রতিনিধি)

২০১৫ সালের ২ অক্টোবর বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন ঢাকার মিরপুর এলাকার জাকির হোসেন মুন্না (৩০) ও আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (৩২)। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তভার গত দুই বছরে পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাত ঘুরে ন্যস্ত হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে। কিন্তু এখনও নিখোঁজ দুই জনের কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে বের হন মুন্না ও জোবায়ের। পরে মাংসাই ম্রো (২৮) নামের একজন গাইডকে সঙ্গে নিয়ে তারা বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেকে যান। ২ অক্টোবর বগালেক থেকে ১০-১৫ কি.মি. দূরের রাইক্ষ্যং পুকুর পাড়ার কাছ থেকে গাইডসহ তারা নিখোঁজ হন। এর পরদিন ঘটনাটি জানাজানি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর নিখোঁজদের সন্ধানে রুমার রাইক্ষ্যং পুকুর পাড়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু নিখোঁজদের আর হদিস মেলেনি। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর পাঁচ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করে ওই পাঁচ জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত একদিনের রিমান্ড শেষে পাঁচ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে তাদের কাছ থেকে নিখোঁজদের ব্যাপারে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

রুমার বগালেক (ছবি- প্রতিনিধি)

বান্দরবানের রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পর্যটক নিখোঁজের ঘটনাটি বান্দরবানের সীমানায় ঘটেনি। ঘটনাটি মূলত রুমার বগালেক থেকে রাইক্ষ্যংপুকুর লেক দেখতে যাওয়ার সময় সিদ্ধুপাড়ায় ঘটে। এ এলাকা রাঙামাটির বিলাইছড়ি থানার অধীনে হওয়ায় রুমাতে কোনও মামলা হয়নি। নিখোঁজের পরিবারও রুমা থানায় কোনও মামলা করেনি। তবে রাঙামাটির বিলাইছড়ি থানায় ঘটনার পর একটি মামলা হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছিলাম।’

এ ব্যাপারে রাঙামাটির বিলাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘পর্যটক নিখোঁজের পর বিলাইছড়ি থানায় অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হলে আমি কয়েক মাস তদন্ত করি। কিন্তু তদন্তে কোনও কিছু উদঘাটন না হওয়ায় রাঙামাটির ডিবি পুলিশকে মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারাও কোনও কিছু উদ্ঘাটন করতে পারেনি। বর্তমানে খাগড়াছড়ির সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করছে।’

 

/এমএ/

লাইভ

টপ