আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে নৌমন্ত্রীর ভাইয়ের মামলা

Send
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:১১, নভেম্বর ২৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৪, নভেম্বর ২৪, ২০১৭

ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে মাদারীপুরের আদালতে ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন নৌমন্ত্রীর চাচাতো ভাই মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য ফারুক খান। চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর নিয়োগের ঘটনা নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের বিরুদ্ধে আসিফ নজরুল ওই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। 

আসিফ নজরুল (ফাইল ছবি)মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া জানান, বিবাদী নজরুল ইসলাম ওরফে আসিফ নজরুল তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন যে, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়োগ পরীক্ষায় ৯২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ৯০ জন নৌপরিবহন মন্ত্রীর এলাকা মাদারীপুরের বাসিন্দা। অথচ উনি চাইলে ৯২ জনই উনার এলাকার লোক হতে পারতো। ২ জন ভিন্ন এলাকার লোক নিয়োগ দিয়ে উনি সততার যে দৃষ্টান্ত দেখালেন তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’ এতে নৌমন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে উল্লেখ করে ফারুক খান তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।


গোলাম কিবরিয়া আরও জানান, মাদারীপুর আদালতে দায়েরকৃত মামলা নং ৪০০/২০১৭। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সমন জারি করেছেন।

মামলায় বাদী  উল্লেখ করেছেন যে, আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে হাজার হাজার ফেসবুক আইডি থেকে নৌমন্ত্রী সম্পর্কে বিরুপ পরিহাস, অশ্লীল, অসম্মানজনক মন্তব্য আসতে থাকে। বাদী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে চট্টগ্রাম বন্দরে যোগাযোগ করে জানতে পারে উক্ত তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য।
এর আগে, এই ঘটনায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়েরের জন্য গত মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করা হলেও আদালত মামলাটি গ্রহণ করেননি। পরে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে বন্দরে নিয়োগের ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সংসদকে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর পদে ৯২ জন নয় চাকরি দেওয়া হয়েছে ৮৫ জনকে। চাকরির বিধান অনুযায়ী এবং কোটা অনুসরণ করে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ২৩ জন, কক্সবাজারের ৪ জন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ২ জন। এ ছাড়া নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ চাকরি পেয়েছেন। যদি জেলা কোটার কথা যদি আসে, তবে আগামী ৩০ বছরের মধ্যেও চট্টগ্রামের কোনও কোটায় চাকরি পাওয়ার কথা নয়। তারপরও বন্দর যেহেতু চট্টগ্রামে, তাই চট্টগ্রামের বিষয়টি জেলা কোটায় ফেলা হয় না।

মাদারীপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা এই মামলায় বাদী পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রীর আপন ছোট ভাই মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ওবাইদুর রহমান কালু খান, সহ-সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হাওলাদার, সদস্য মেসবাহউদ্দিন খোকন, সেহেলা ইয়াসমিন কলি, সাইদুর রহমান সাঈদ ও সালাউদ্দিন খান রাসেল।

মামলায় সাক্ষী হিসেবে আছেন মাদারীপুর জেলা পরিষদের চার সদস্য। তারা হলেন- সামচুল আলম নান্নু, এ্যাড. যতীন সরকার, মান্নান লস্কর ও নুরজাহান পারুল।

মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর। ওইদিন আসিফ নজরুলকে মাদারীপুর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন। 

/এমও/এসএসএ/

লাইভ

টপ