সীমানা প্রাচীরের অভাবে অরক্ষিত ময়মনসিংহের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ

Send
আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত : ০৪:০০, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫২, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৭

ভেঙে যাওয়া সীমানা প্রাচীর গত দুই বছরেও পুনর্নির্মাণ না করায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বখাটে ও নেশাগ্রস্তদের আনাগোনাসহ অবাধে বিচরণ করছে গবাদি পশু বলে অভিযোগ করেছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডারসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তারা বলছেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকের সামনের অংশ বর্তমানে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্মৃতিসৌধের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকাবাসী।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে দেড় যুগ আগে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে পাটগুদাম এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ। প্রধান ফটক পেরোলেই দেখা যাবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি নামফলক। প্রায় দুই বছর আগে স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকের পাশের সীমানা প্রাচীরের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায়। ভাঙা অংশটি মেরামত না করায় সীমানা প্রাচীরের রড ও অ্যাঙ্গেল চুরি হতে থাকে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দুই বছরের মাথায় বর্তমানে স্মৃতিসৌধের অর্ধেকের বেশি অংশেই সীমানা প্রাচীর নেই। এ কারণে স্মৃতিসৌধটি হয়ে পড়েছে অরক্ষিত।

স্মৃতিসৌধ নাকি ময়লার ভাগাড়!

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুই বছর আগে স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকের সামনের অংশের সীমানা প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর তা মেরামতের জন্য জেলা পরিষদকে জানানো হয়। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের কোনও উদ্যোগ নেই।’

তিনি জানান, সীমানা প্রাচীরের রড ও লোহার অ্যাঙ্গেল নেশাখোরেরা চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় এখন সীমানা প্রাচীরের বেশিরভাগ অংশই ভেঙে গেছে। ফলে স্মৃতিসৌধটি বখাটে ও নেশাগ্রস্তদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে, দাবি কমান্ডার আনোয়ারের। তিনি আরও জানান, স্মৃতিসৌধ সুরক্ষায় বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধাদের এই নেতা।

দেয়াল না থাকায় স্মৃতিসৌধ এলাকায় গবাদিপশুর অবাধ বিচরণময়মনসিংহ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ জানান, সীমানা প্রাচীর না থাকায় শুধু বখাটেরাই নয়, অবাধে গবাদিপশু ভেতরে ডুকে পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধান ফটকের পাশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি নামফলকের সামনে স্থানীয়রা ময়লা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করেছে।’ এটা দেখার কেউ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক বিমল পাল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে স্মৃতিসৌধের বর্তমান পরিস্থিতির কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না।’  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের সময়ে স্মৃতিসৌধের এমন বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিমল পাল।

স্মৃতিসৌধের ভেতরের দৃশ্যস্থানীয় বাসিন্দা কাসেম আলী জানান, আন্তঃজেলা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন স্মৃতিসৌধে রাতদিন বখাটে নেশাখোররা ভেতরে ঢুকে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা করে। তারা এখানে বসে নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে। পরিবেশ ভালো না থাকায় এবং হয়রানির ভয়ে দর্শনার্থীরাও এখন আর স্মৃতিসৌধে আসেন না। পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক বাতি ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় রাতের বেলা এখানে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয় বখাটেরা বলে দাবি করেন আবুল কাসেম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাটগুদাম এলাকার একজন ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, স্মৃতিসৌধ এখন বখাটেদের আড্ডার জায়গায় পরিণত হয়েছে। দেখার কেউ নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘স্মৃতিসৌধের বর্তমান পরিবেশ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবমাননার শামিল।’ 

চলছে নেশাখোরদের মাদক সেবন

অভিযোগ স্বীকার করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান বলেন, ‘প্রশাসনের সহায়তায় খুব শিগগিরই স্মৃতিসৌধের আশপাশের জায়গা দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হবে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বরাদ্দও পাওয়া গেছে। দ্রুত কাজ শুরু করার কথাও জানান তিনি।

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ