২১ হানাদারের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শত্রুমুক্ত হয় নরসিংদী

Send
আসাদুজ্জামান রিপন, নরসিংদী
প্রকাশিত : ১৩:৫০, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫০, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকআজ ১২ ডিসেম্বর নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর ২১ সদস্যের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শত্রুমুক্ত হয় নরসিংদী। এ দিন বর্তমান পলাশ উপজেলার জিনারদী রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে পাটুয়া গ্রামে সংঘটিত হয়েছিল নরসিংদীর শেষ যুদ্ধ। এ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই নরসিংদী মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, নরসিংদীর আশপাশের থানাগুলো থেকে যখন হানাদার বাহিনী তাদের তল্পিতল্পা গুটাতে বাধ্য হয়, তখন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল চাপের মুখে নরসিংদীর হানাদাররাও ঢাকায় চলে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ে। ১২ ডিসেম্বর সকালে হানাদারদের এমনই একটি দল জিনারদী রেলস্টেশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এ খবর পৌঁছামাত্র ন্যাভাল সিরাজের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল পাটুয়া গ্রামে হানাদারদের গতিরোধ করে। এ সময় শুরু হয় ব্যাপক যুদ্ধ। প্রায় এক ঘণ্টা যুদ্ধ চলার পর ২১ জন হানাদার অস্ত্রশস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ২১ হানাদারের মধ্যে দুজন মারাত্মক আহত হওয়ায় তাদেরকে হত্যা করা হয়। বাকি ১৯ জনকে স্বাধীনতার পর ১৭ জানুয়ারি মেজর হায়দারের মাধ্যমে রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে নরসিংদী জেলা ছিল ২নং সেক্টরের অধীনে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ। পরে নরসিংদীকে ৩নং সেক্টরের অধীনে নেওয়া হলে কামান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মো. নূরুজ্জামান।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মোতালিব পাঠান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১২ ডিসেম্বর নরসিংদীবাসীর কাছে অত্যন্ত গৌরবময় ও স্মরণীয় দিন। প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। এ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সমুন্নত রাখতে স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর ২০০৫ সালে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক নির্মিত হয়।’

/বিএল/

লাইভ

টপ