জীবননগরে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ: প্রেমিক গ্রেফতার

Send
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪০, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪২, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮





ধর্ষণচুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। দুই বন্ধুসহ মেয়েটির প্রেমিকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ। এসময় মোবাইলে ফোনে ধর্ষণের দৃশ্যধারণ ও স্বর্ণের গহনা কেড়ে নেওয়া হয়। ঘটনা ফাঁস করলে ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিন জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই দিন বিকালে এলাকাবাসীর হাতে আটক প্রেমিক আরিফুল ইসলাম আরিফকে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) চুয়াডাঙ্গার সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে। জুয়েল ও সিরাজুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল ইসলাম আরিফের (২৫) বাড়ি জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নে। তিনি আলীপুর গ্রামের রাখালশাহ পাড়ার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। পেশায় দোকান কর্মচারী। তিনি ওই মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা শেষে ওই মেয়েটি বাড়ি ফেরে। বিকালে প্রেমিক আরিফ দেখা করার কথা বলে মোবাইলে ফোনে তাকে ডেকে নেয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোরাঘুরির পর তাকে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় প্রেমিক। সেখানে আগে থেকেই তার দুই বন্ধু আজিল হোসেনের ছেলে জুয়েল (২৩) ও আব্দুর রশিদ দেওয়ানের ছেলে সিরাজুল (২৮) ওঁৎ পেতে ছিল। আরিফ তাকে নিয়ে ভুট্টাক্ষেতে পৌঁছালে জুয়েল ও সিরাজুল তাকে ধর্ষণ করে। তারা ধর্ষণের দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। পরে প্রেমিক আরিফ তাকে ধর্ষণ করে। এসময় স্বর্ণের গয়না কেড়ে নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় তাকে ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রেখে মোটরসাইকেলযোগে তারা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় এ ঘটনার কথা ফাঁস করলে ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার ওই পরীক্ষার্থী বাড়ি ফিরে তার পরিবারের সদস্যদেরকে বিষয়টি জানালে সামাজিক অবস্থানের কথা বিবেচনা করে তারা চুপ থাকেন। কিন্তু ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার বিকালে স্বর্ণের গহনা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আবারও তাকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ব্রিজের কাছে দেখা করতে বলে আরিফ। তার কথামতে সেখানে হাজির হয় মেয়েটি। তখন মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী আরিফকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

জীবননগর পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘আরিফকে সমাজের মানুষ আটক করে পুলিশে দিয়েছে।’

 

/এনআই/

লাইভ

টপ