একরাম হত্যা মামলা: প্রধান আসামি মিনার খালাস, ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০০, মার্চ ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৭, মার্চ ১৩, ২০১৮

একরাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল (ফাইল ছবি)ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি জেলা তাঁতী দলের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারসহ ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৩৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আমিনুল হক এই রায় দেন। জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহম্মেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খালাসপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন জেলা যুবলীগের নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, কাজীরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান রউপ, আনন্দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের হাজী বেলায়েত হোসেন পাটোয়ারী (টুপি বেলাল), ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতা ও কমী পবন, রিপন, ইকবাল হোসেন, শরিফুল জামিল পলাশ (পলাতক), কালামিয়া, ইউনুছ ভূঁঞা শামীম (পলাতক), আলমগীর, কাদের, ফারুক, জাহিদ হোসেন ভূঁঞা, মো. মাসুদ ও শাখাওয়াত হোসেন।
রায় ঘোষণার আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ৩৬ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহকারী সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মো. আদেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন চৌধুরী ওরফে জিহাদ চৌধুরী, ফেনী পৌরসভার তৎকালীন পাঁচ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলু।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হচ্ছেন আবিদুল ইসলাম আবিদ, কাজী শাহনান মাহমুদ শানান, নাফিজ উদ্দিন অনিক, জাহিদুল হাসেম সৈকত, সাজ্জাদুল ইসলাম সিফাত, শাহজালাল উদ্দিন শিপন, হেলাল উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান বাপ্পী, আজমীর রায়হান, আরমান হোসেন কাউছার, আবু বক্কর ছিদ্দিক, শাখাওয়াত, আলমগীর ওরফে আলাউদ্দিন, মীর হোসেন স্বপন, আনোয়ার হোসেন, আলাউদ্দিন, সজীব, এমরান হোসেন রাসেল, মাসুদ, আবুল হোসেন জাহাঙ্গীর, আবদুল কাইয়ূম, নূর উদ্দিন মিয়া, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, কপিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, টিটু, রাহাত মো. এরফান আজাদ, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, বাবলু, শফিকুর রহমান ময়না, একরাম হোসেন আকরাম, মোসেলহ উদ্দিন, এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মো. নাফিস উদ্দিন অনিক, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আরমান হোসেন কাউসার ও জসিম উদ্দিন নয়ন।

দন্ডিতদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, কপিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, টিটু, রাহাত মো: এরফান আজাদ, শরিফুল ইসলাম পিয়াস, বাবলু, শফিকুর রহমান ময়না, একরাম হোসেন আকরাম, মোসেলহ উদ্দিন আসিফ পলাতক আছেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে জামিন নিয়ে পালিয়ে যাওয়া দণ্ডিতদের রয়েছেন মধ্যে এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, জাহিদুল হাসেম সৈকত, চৌধুরী মো. নাফিস উদ্দিন অনিক, আবিদুল ইসলাম আবিদ, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আরমান হোসেন কাউসার ও জসিম উদ্দিন নয়ন।

এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫৬ জনের মধ্যে ২০ আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রথম থেকেই পলাতক। বাকি ৯ জন আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর পলাতক আছেন। এছাড়া র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে আসামি সোহেল ওরফে রুটি সোহেল।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন একরামের স্ত্রী তাসমীন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক।’ একই চাওয়া একরামের ভাই মামলার বাদী জসিম উদ্দিনের। তিনি এদিন আদালতে ছিলেন না।
নিম্ন আদালতের এই রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহম্মেদ। এই রায় ‘মানুষের আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব’ দূর করতে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য তার।
২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হককে কুপিয়ে, গুলি চালিয়ে গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করে আসামিরা।

এ ঘটনায় একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনারসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। হত্যার প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেন আদালত।
গত ২৮ জানুয়ারি এই মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ এ পর্যন্ত ৫০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।



 

/জেএইচ/

লাইভ

টপ