বড়লেখায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, হাসপাতাল ঘেরাও

Send
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৪১, মার্চ ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪১, মার্চ ১৫, ২০১৮

মৌলভীবাজার

চিকিৎসকের অবহেলায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রী মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ করলে পুলিশ ডেকে স্বামীকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করেন। পরে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বুধবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত নারীর নাম হালিমা বেগম (৩৫)। তিনি পৌরসভার আহমদপুর এলাকার ফারুকুল ইসলামের স্ত্রী।


নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যারাতে পৌরসভার আহমদপুর এলাকার ফারুকুল ইসলামের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হালিমা বেগমের প্রসব ব্যথা ওঠে। এসময় স্বামী ফারুকুল ইসলাম তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ওই নারী মারা যান। এই সময় দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার ডা. শারমিন আক্তার হাসপাতালে ছিলেন না। তিনি বাইরে রোগী দেখছিলেন বলে নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। চিকিৎসক আসতে দেরি ও অবহেলার কারণে স্ত্রী মারা গেছেন দাবি করে স্বামী ফারুকুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে তাকে ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ তাকে (ফারুকুলকে) ছেড়ে দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান, পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
নিহতের স্বামী ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় আধঘণ্টা জরুরি বিভাগে অপেক্ষা করেও কোনও ডাক্তার পাইনি। বিনা চিকিৎসায় আমার স্ত্রী মারা গেছেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক বাইরে ছিলেন। আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর হাসপাতালে আসেন ডা. শারমিন। এসময় আমি চিকিৎসকের চরম অবহেলার প্রতিবাদ করি। এতে হাসপাতালের লোকজন আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। প্রায় আধঘণ্টা থানায় আটক থাকার পর আমাকে ছাড়া হয়।’
এ ব্যাপারে মেডিক্যাল অফিসার ডা. শারমিন আক্তার বলেন, ‘রোগীর হাই ব্লাডপ্রেসার ছিল। সিএনজি থেকে নামার সময় তিনি প্রচুর ঘামছিলেন। বেডে নেওয়ার পর অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা শুরুর আগেই তিনি মারা যান। এতে তার স্বামী ডাক্তারদের ওপর চড়াও হন। মারাত্মক দুর্ব্যবহার করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওসি সাহেবকে কল করেছি। মারমুখী আচরণের কারণে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।’
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন উত্তেজনা চলছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই নারীর স্বামীকে সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে (নিহতের স্বামীকে) হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সুহেল মাহমুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দায়িত্ব পালনে কেউ যদি অবহেলা করে থাকেন অথবা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তাছাড়া জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির সভাপতি হুইপ মহোদয়কে সভা আহবান করে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে আলোচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে।’ 

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ