চিলমারীতে শতবর্ষী কূপ দখল করে মক্তব নির্মাণ!

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:১৯, এপ্রিল ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৩, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

চিলমারীতে শতবর্ষী কূপ দখল করে তৈরি করা হচ্ছে মক্তবকুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় শতবর্ষী একটি কূপ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে মক্তব নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্থানীয়রা এতে বাধা দিলেও কর্ণপাত করেনি মক্তবের উদ্যোক্তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, চিলমারীর রমনা ইউনিয়নের রমনা ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে সরকারি খাস জমিতে অবস্থিত শতবর্ষী একটি কূপ। এই কূপসহ ওই বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে মক্তব নির্মাণের উদ্যোগ নেন রমনা ইউনিয়নের সরকার বাড়ি গ্রামের খলিল মিয়া ও তার ছেলে জাকারিয়া। এতে বাধা দিলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. নাজমা বেগমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন পিতা-পুত্র। পরে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ধলু মিয়া ও স্থানীয়রা বাধা দিতে এলে তাদের সঙ্গেও একই আচরণ করেন খলিল মিয়া ও তার ছেলে। মক্তব নির্মাণ করলে অনেক ছওয়াব পাওয়া যাবে বলে তারা এ কাজে তাদের বাধা দিতে নিষেধ করেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, এলাকার পানীয় জলের অভাব পূরণ করতে ১৯১৬ সালে নির্মাণ করা হয় ওই কূপটি। এরপর ওই কূপই ছিল ওই এলাকার মানুষের সুপেয় পানির অন্যতম উৎসব। পরে বাড়িতে বাড়িতে নলকূপ বসতে থাকলে ওই কূপের ব্যবহার কমে যায়। এখন ওই কূপের পানি কেউ ব্যবহার না করলেও এলাকাবাসীর জমিজমার সীমানা নির্ধারণের জন্য কূপটি সীমানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়া, প্রাচীন একটি স্থাপনা হিসেবেও এলাকাবাসীর কাছে কূপটি সমাদৃত। আশপাশের এলাকার মানুষও শতবর্ষী কূপটি দেখতে ছুটে আসেন রমনায়।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কূপটি ব্রিটিশ আমল থেকে এলাকার জমিজমা মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ ম্যাপেও ওই কূপের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা এখনও চলে আসছে। তাছাড়া এত পুরনো একটি স্থাপনার ঐতিহাসিক মূল্যও তো আছে।’ খাসজমিসহ কূপটি দখল করে মক্তব নির্মাণের উদ্যোগে বাধা দিলেও দখলকারীরা তা শোনেনি বলে জানান তিনি।
চিলমারীর রমনা ইউনিয়নের শতবর্ষী কূপরমনা ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. নাজমা বেগম বলেন, ‘মক্তব নির্মাণের নামে সরকারি খাস জমি ও শতবর্ষী ওই কূপের পাশাপাশি আমার বিদ্যালয়ের জায়গাও দখল করা হয়েছে। আমি বাধা দিলে দখলকারী খলিল মিয়ার পুত্র জাকারিয়া ও তার সহযোগী রয়েল আমার সঙ্গে খুবই বাজে ব্যবহার করে। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ধলু মিয়াকে জানালে তিনিও জায়গা দখলে বাধা দেন। কিন্তু তার নিষেধও মানেনি দখলকারীরা।’
বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ধলু মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি শোনার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দখলকারীদের বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা মানেনি।
এ বিষয়ে জানতে মক্তবের উদ্যোক্তা খলিল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কূপ দখল করে মক্তব নির্মাণ করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ব পুরুষদের জায়গায় ওই কূপ তৈরি করা হয়েছিল। মক্তব নির্মাণে জায়গা সংকট থাকায় কূপটি মক্তবের ঘরের ভেতর নেওয়া হয়েছে।’ তবে বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
জানতে চাইলে চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনে প্রধান শিক্ষককে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মুরাদ হাসান বেগ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এমন কোনও অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো। ঘটনার সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন-
মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ
নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন পেলো দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড

/টিআর/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ