উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গণগ্রেফতার অব্যাহত রাখার অভিযোগ তুলেছে খুলনা বিএনপি। দলটির দাবি, তাদের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশনার কপি রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে দাখিলের পরও গ্রেফতার করা হয়েছে মহানগর বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিনকে। সবমিলিয়ে সোমবার (১৪ মে) আরও ৪টি বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বিএনপি।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ বসুপাড়া কবরখানা সংলগ্ন বিএনপি সমর্থিত ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আনিসুর রহমান আরজুর বাড়ির সামনে থেকে তুহিনকে গ্রেফতার করে। এ সময় আরজুর বাড়িও ঘেরাও করে রাখে পুলিশ।
এছাড়া সকালেও আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ আকারে জমা দিয়েছে বিএনপি। এর জবাবে খুলনা সিটি করপোরেশন ( কেসিসি) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করছে ইসি।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমতাজুল হক বলেন, নতুন কোনও মামলা তুহিনের বিরুদ্ধে হয়নি। তবে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের একটি নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতদিন প্রকাশ্যে থাকলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি কেন—এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে এটি নির্বাচন সংক্রান্ত গ্রেফতার নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, পুলিশ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানছে না অভিযোগ করে কেসিসি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেএমপি কমিশনার হুমায়ূন কবির, নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম এবং নগরীর ৬টি থানার ওসির অপসারণ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী শহর থেকে বহিরাগতদের অবস্থানের সুযোগ না থাকলেও আওয়ামী লীগ পিটিআই মোড় সংলগ্ন হাবিব তালুকদারের বাড়ি, খালিশপুরস্থ পিপলস পাঁচতলা কলোনি, হোটেল শাহীন, হোটেল এ্যাম্বাসেডর, হোটেল পার্ক ও ক্যাসল সালামসহ অধিকাংশ আবাসিক হোটেলে বহিরাগতদের এনে জড়ো করেছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর সব আবাসিক হোটেল তল্লাশি করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, নগরীর সব ভোটকেন্দ্রের সামনের রাস্তার ওপর নৌকা প্রতীকের প্যান্ডেল তৈরি করে ঘিরে রাখা হয়েছে। এটি নির্বাচনি আচরণবিধি পরিপন্থী উল্লেখ করে এগুলো অপসারণের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে সোমবার রাতেই নির্বাচন কমিশনে চারটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







