‘খালেক মানেই উন্নয়ন’

Send
হেদায়েৎ হোসেন, খুলনা
প্রকাশিত : ০৪:২১, মে ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৯, মে ১৬, ২০১৮

 
তালুকদার আবদুল খালেক (ফাইল ছবি)‘উন্নয়ন হয়েছিল, উন্নয়ন হয়নি, উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী খালেক জিতলে উন্নয়ন হবে অকল্পনীয়। উন্নয়ন ইস্যুই খালেক আর জনতার সেতুবন্ধন হয়েছে, যার সুফল পেয়েছেন খালেক। এখন তাকে জনতার জন্য সুফল বয়ে আনতে হবে। খুলনার নাগরিকরা এ প্রত্যাশাই করছে।’

খুলনার নাগরিক নেতা কুদরত ই খুদা এভাবেই মূল্যায়ন করলেন তালুকদার আব্দুল খালেকের বিজয়কে।

তিনি বলেন, ‘খালেক মানেই উন্নয়ন, যা বিগত সময়ে প্রমাণিত হয়েছে। খালেক ৫ বছর মেয়র না থাকায় খুলনা উন্নয়ন বঞ্চনায় ছিল, যা নবনির্বাচিত মেয়রকে পূরণ করতে হবে। এটাও খালেকের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্চ। সবচেয়ে বড় কথা প্রধানমন্ত্রীর এককথায় খালেক অনেক বড় ত্যাগ করেছেন। তিনি সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দিয়ে মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ বিজয় খালেকের নয়, এ বিজয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কাজেই খুলনার উন্নয়নও শেখ হাসিনাই করবেন।’ এ জন্য খালেককে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে মত দেন খুদা।

কেবলমাত্র বিশিষ্ট নাগরিকরাই নয়, খুলনার সব শ্রেণি-পেশার মানুষও এমনটাই মনে করেন।

দলীয় ঐক্য সুদৃঢ়: ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনের সময় দলের মধ্যে সৃষ্ট অনৈক্যের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগিয়েছেন খালেক। তিনি নিজেও পরিবর্তিত হয়েছেন। পাশাপাশি দলের মধ্যে বক্তিগত রেষারেষি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতারও অবসান ঘটিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। ফলে এবার আর ক্ষমতায় থাকারও পরও খালেককে ছিটকে যেতে হয়নি।

মনির ভুলে মঞ্জুর খেসারত: ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর কেসিসি পরিচালনা ও দুর্নীতি দমনে মো. মনিরুজ্জামান মনির সক্রিয় ভূমিকা না থাকা, ময়ুর নদী যথাযথভাবে খনন না হওয়া, পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা না হওয়া, খালের জায়গা দখল মুক্ত না হওয়া, ময়ুর নদীর পানিতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়া, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা যথাযথ না হওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম মাথাচারা দিয়ে ওঠে। এর প্রভাবে মনির জনপ্রিয়তার পারদেও ধ্স নেমে আসে। এ কারণে মনিকে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে মঞ্জুকে মেয়র পদে প্রার্থী করা হয়। কিন্তু মনির না পারার ব্যর্থতার দায় মঞ্জুকেই বহন করতে হলো পরাজয়ের মাধ্যমে। আর এতে লাভবান হলেন খালেক।

৩১ দফা ইশতেহার: সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ, পরিকল্পনা গ্রহণে পরামর্শক কমিটি গঠন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবার বৃদ্ধি, কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটের উন্নয়ন, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি, সিটি সেন্টার গড়ে তোলা, বিনামূল্যে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি, গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়ন, পার্ক-উদ্যান নির্মাণ ও বনায়ন সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রাস্তার নামকরণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে ক্রীড়া উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ, সোলার পার্ক আধুনিকায়ন, বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ, কেসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করা, যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান, সুইমিং পুল স্থাপন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তা প্রদান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে আরও উদ্যোগ গ্রহণ, ৩টি নতুন থানা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, আধুনিক কশাইখানা নির্মাণ, খালিশপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন, ওয়াসা, কেডিএ, রেলওয়ে, টেলিকমিউনিকেশন ও বিদ্যুৎ পরিসেবার উন্নয়ন এবং খুলনা মহানগরী সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ।

তালুকদার আব্দুল খালেক ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কেসিসি মেয়র ছিলেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত খুলনা ২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া নিজেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সবকিছুই এবারের ভোটের হিসাব-নিকাশে আনছেন ভোটাররা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কেসিসির সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট। ওই নির্বাচনে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬ জন।

/এইচআই/

লাইভ

টপ