শিক্ষকের বেত্রাঘাতে জ্ঞান হারালো শিক্ষার্থী

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৪০, মে ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৫, মে ১৬, ২০১৮

শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থীফেনী সদরের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ক্লাসেই জ্ঞান হারিয়েছেন অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে ফেনী সদরের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার খন্ডকালীন শিক্ষক হলেন আজিম খান । মঙ্গলবার ‘ক’ ও ‘খ’ শাখার শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে ক্লাস হয়। কিন্তু ‘ক’ শাখার কী পাঠ ছিল সেটা ‘খ’ শাখার মেয়েরা জানতো না। তাই তারা সেটা সঠিকভাবে বলতে পারেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ‘খ’ শাখার শিক্ষার্থীদের গণহারে বেত্রাঘাত শুরু করেন শিক্ষক আজিম খান। এসময় বেত্রাঘাতে ক্লাসেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সাদিয়া আফরিন মিতু নামে এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর চামড়া কেটে গিয়ে রক্ত বের হয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষকের অফিসে এনে তাদের ব্যান্ডেজ লাগানো হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও থামেননি ওই শিক্ষক। শিক্ষকের এমন উন্মত্ত আচরণ দেখে ভয়ে ও আতংকে কুঁকড়ে যায় শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেন মেয়েটির  পিতা প্রবাসী আবাছার উদ্দিন। তিনি প্রবাস থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মেয়ের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা ও ছবি দিয়ে এ  ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান। এতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আহত শিক্ষার্থীমেয়েটির পিতা প্রবাসী আবছার উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে মারতে মারতে হাঁপিয়ে উঠেছে। তারপরও মেরেছে। মারের আঘাতে রক্ত বের হয়ে গেছে, তারপরও সে থামেনি।পরে ক্লাসেই জ্ঞান হারিয়েছে আমার মেয়ে।’

এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদ খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘শিক্ষার্থী মিতুকে পেটানোর ঘটনায় স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করায় বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করেছে কতৃপক্ষ। ঘটনাটি অমানবিক। বিষয়টি  স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সঙ্গে বসে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হবে।’

ফেনী সদরের ইউএনও মো. মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। তবে এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিব।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক  আজিম খানের ব্ক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  

/এসএসএ/

লাইভ

টপ