কানাডায় এমপি নির্বাচিত হওয়ায় ডলির গ্রামের বাড়িতে আনন্দ

Send
সাইফুল ইসলাম,মৌলভীবাজার
প্রকাশিত : ০১:০৩, জুন ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৩, জুন ০৯, ২০১৮

ডলি বেগমকানাডায় প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নির্বাচিত এমপি ডলি বেগমের বাড়ি মৌলভীবাজারের বাজারকোনা গ্রামে। বৃহস্পতিবারের (৭জুন) নির্বাচনে তিনি কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের টরেন্টো এলাকার স্কারবরো সাউথওয়েষ্ট আসন থেকে জয়ী হন। নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) এমপি ডলি বেগম প্রথমবারের মতো প্রোভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে শুধু কানাডায় নয়, সারা বিশ্বের বাঙালীদেরদের জন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার এই জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তার নিজ জেলা মৌলভীবাজারবাসীরাও।

ডলির গ্রামের বাড়িসরেজমিনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাজরাকোনা গ্রামে ডলি বেগমের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার চাচা ও পল্লী সমিতির এলাকা পরিচালক আব্দুস শহীদের সঙ্গে। তিনি জানান, ডলির বাবা রাজা মিয়া প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে তিনি কানাডায় যান। তার স্ত্রী জবা বেগমসহ এক ছেলে  ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা হলেন ডলি বেগম (২৭) ও মহসিন মিয়া (২৪) । কানাডা যাওয়ার পর ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার আবেদন করে ১৯৯৯ ডলি বেগমসহ সবাইকে কানাডায় নিয়ে যান রাজা। কানাডা যাওয়ার আগে ডলি বেগম স্থানীয় মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষে মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন।

আব্দুস শহীদ জানান, তিনি ছাড়াও বাংলাদেশে ডলির আরেক চাচা আছেন। তার নাম আব্দুল মজিদ বাদশা (৬০)। তিনি বলেন, ‘আমার ভাতিজি কানাডার পার্লামেন্ট নির্বাচনে জিতে শুধু আমাদের গ্রামের সম্মান নয়, পুরো বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমি ডলির জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

ডলির চাচা শহীদ ও ইউপি সদস্য শাহ ইমরানের সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি (মাঝখানে)মৌলভীবাজারের মনুমুখ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ ইমরান সাজু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টে নির্বাচিত হবে আমরা তা কখনো ভাবতে পারেনি। তিনি কানাডার যাওয়ার পর বেশ কয়েকবার দেশে এসেছেন। গ্রামের বাড়িতে গরীব-দুঃখী মানুষকে আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। আমাদের মেয়ে ডলি কানাডার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছে। এতে আমরা আনন্দ প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলছি।’ ডলির চাচাতো দাদা আজাদ মিয়া ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম চৌধুরীও প্রতিবেদকের কাছে আনন্দ প্রকাশ করেন।

ডলি বেগমের দাদা ও মনুমুখ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুজন মিয়া বলেন, ‘আমার নাতনী কানাডার পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ফোন করে ডলির বিষতে জানতে চেয়েছে। আমি সকলে কাছে আমার নাতনির জন্য দোয়া চাই।’

ডলির চাচার সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি (ডানে)কানাডার টরন্টো থেকে প্রকাশিত জালালাবাদবার্তা ডটকমের সম্পাদক প্রকাশক রুহুল কুদ্দুছ চৌধুরী মুঠোফোনে বাংলাট্রিবিউনকে জানিয়েছেন বলেন, ২৭ বছর বয়সী ডলি প্রোগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির হ্যারি এলিসকে ৬ হাজার ১৫৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছে। ডলির মোট ১৯ হাজার ৭৫১ ভোট পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, নির্বাচনে তার এই জয়ের আগে কোনও বাঙালী টরন্টো, এমনকি কানাডার কোনো পার্লামেন্টারি নির্বাচনেও জয়লাভ করতে পারেননি।

ডলির চাচা আব্দুস শহীদ আরো জানান, অল্প বয়সে কানাডায় গিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েন ডলি। তার বাবা ২০০১ সালে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তখন তার বাবাকে হাসপাতালে দেখা-শোনার সবকিছুই তাকে করতে হতো। তিনি ২০১২ সালে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। আর ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে পড়েছেন স্নাতোকত্তর। ডলি বেগম প্রাদেশিক সংগঠন কিপ হাইড্রো পাবলিক ক্যাম্পেইনের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। এছাড়া স্কেয়ারবোরো হেলথ কোয়ালিশনের সহ-প্রধান ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন- প্রথমবারের মতো কানাডার প্রাদেশিক এমপি বাংলাদেশি ডলি বেগম

 

/এসএসএ/আরএ/

লাইভ

টপ