অর্থ সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে মিমের লেখাপড়া

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৩৫, জুন ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৮, জুন ১১, ২০১৮

বাবা-মায়ের সঙ্গে শারমিন আক্তার মিমআইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন শারমিন আক্তার মিমের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়েও লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারছেন না তিনি। অর্থ সংকটে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তার বাবা নওগাঁর মান্দা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামের রিকশাচালক জামাল হোসেন। মা মোরশেদা খাতুন গৃহিনী।  তাদের দুই মেয়ের মধ্যে মিম বড়। আর ছোট মেয়ে শাহারা আফরিন।

শারমিন আক্তার মিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার ইচ্ছা আইনজীবী হবে। সেজন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৩৯৬ নম্বর মেধা তালিকায় ভর্তি হন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে প্রথম সেমিস্টারেরে ক্লাস শুরু হয়েছে। আবাসিক হলে সিট না পেয়ে পড়াশোনার জন্য মেসে থাকতে হতো। এজন্য প্রতিমাসে থাকা ও খাওয়া বাবদ ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হতো। বাবা মেসের খরচ যোগাতে না পারায় আর থাকা সম্ভব হয়নি। গত মাস থেকে বাড়িতে অবস্থান করছেন শারমিন।

শারমিনের বাবা জামাল হোসেন বলেন, ‘একটি ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী এবং দুই মেয়ে শারমিন আক্তার মিম ও শাহারা আফরিনকে নিয়ে বাস করি। বড় মেয়ে মিমকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি করেছি। কিন্তু এখন আর তার পড়াশোনার খরচ যোগাড় করতে পারছি না। বাবা হিসেবে যে কত কষ্টের তা বোঝানো যাবে না। মেয়েটার চোখের দিকে তাকাতে পারিনা। নিজেকে অপরাধী মনে হয়।’

ছোট মেয়ে শাহারা আফরিন মান্দা এসসি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

শারমিনের মা মোরশেদা খাতুন বলেন, ‘শত কষ্টের মাঝেও দুই মেয়েকে শিক্ষিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু মাঝ পথে টাকার অভাবে মেয়ের উচ্চ শিক্ষা নেওয়া থেমে গেছে। স্বামীর আয়ে এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। মেয়েকে পড়ানোর এত টাকা কোথায় থেকে দেবো।’

শারমিন আক্তার মিম ২০০৯ সালে ৫ম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষায় মান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫১০ নম্বর এবং মান্দা এসসি পাইলট স্কুল ও কলেজ থেকে ২০১২ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এ-প্লাসসহ বৃত্তি লাভ করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে এ-প্লাস এবং ২০১৭ সালে নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে  জিপিএ ৪ দশমিক ২৫ অর্জন করে। ২০১৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপনার কাছ থেকে জানলাম। আমি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার ব্যবস্থা করে দেবো।’

 

/এনআই/

লাইভ

টপ