বেতন-ভাতা না পেয়ে সিরাজগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করলেন কর্মচারীরা

Send
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:৪৩, জুন ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৫, জুন ১৩, ২০১৮

বেতন-ভাতা না পেয়ে সিরাজগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করলেন কর্মচারীরাদুই মাসের বেতন-ভাতা ও বোনাস না পেয়ে সিরাজগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের দফতরি-কাম-পিয়নরা অবরুদ্ধ করলেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালেককে। মঙ্গলবার (১২ জুন) দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দফতরে এই ঘটনা ঘটে। তখন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিজ কার্যালয় ছেড়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু, সেখানে বিক্ষুব্ধরা গিয়ে তাকে টানা দু’ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এদিকে, আকস্মিক পরিদর্শনে আসা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনায়ের যুগ্ন সচিব আব্দুল মান্নানসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজার আশ্বাসে অবশেষে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতর থেকে বেতন-ভাতার চাহিদাপত্র সময়মতো না পাঠানোর কারণে এবার ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস পাচ্ছেন না সদর উপজেলার প্রায় ১’শ ৩৫ জন দফতরি-কাম-পিয়ন।

উপস্থিত যুগ্ম সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সামনে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালেক বলেন, ‘জেলা রাজস্ব অফিসের অসহযোগিতার কারণে আমরা চাহিদাপত্র সময়মত অধিদফতরে পাঠাতে পারিনি। অধিদফতর থেকে যেভাবে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে চাহিদাপত্র চেয়েছে, জেলা রাজস্ব অফিস ঠিক সেভাবে না দিয়ে পুরোনো নিয়মে দিতে চেয়েছে। আর এ জন্য শেষ পর্যন্ত আমরা চাহিদাপত্র পাঠাতে পারিনি।’

জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সামনেই বলেন, ‘সোমবার বিকালে ভিড়ের মধ্যে উনি হঠাৎ চাহিদপত্রে আমার স্বাক্ষর নিতে আসেন। কিন্তু ভিড় থাকায় তা একদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়া হয়। উনি তো ঠিক সময়ে আমার দফতরে আসেননি। নির্ধারিত ফরম পূরণ করে চাহিদাপত্র সরবরাহ তো দূরের কথা।’

জেলা শিক্ষা অফিসার সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘সমস্যাটি একেবারেই সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের। উনি ভয়ে আমার অফিসে আশ্রয় নিয়ে আমাকেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন।’

পরিদর্শনে আসা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বেতন-ভাতার চাহিদাপত্র মে মাসেই পাঠানো উচিৎ ছিল। তা না পাঠিয়ে জুন মাসের ৭ তারিখে তা অধিদফতরে পাঠানোর কারনে এ সমস্যা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি আমরা দেখছি। কিন্তু, ঈদের আগে তারা বেতন-ভাতা পাবে কি-না, তা বলা সম্ভব না।’

 

 

/এনআই/

লাইভ

টপ