মা-বাবা ছাড়া দ্বিতীয় ঈদ মিম-সুমাইয়ার

Send
জিয়াউল হক, রাঙামাটি
প্রকাশিত : ১১:২৯, জুন ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৮, জুন ১৩, ২০১৮

আর কয়েক দিন পর ঈদ। ছোট্ট মিম (৮) ও সুমাইয়ার (৫) খুশির এই ঈদ কাটবে মা-বাবা ছাড়া। গত বছরের ১৩ জুন পাহাড় ধসে মা-বাবাকে হারিয়েছে অবুঝ এই দুই শিশু। এটি হবে মা-বাবা ছাড়া তাদের দ্বিতীয় ঈদ। এতিম এ দুই বোনকে দেখাশোনা করছেন কাকা কাউসার ও ফুপু রিনা।
সেদিনের পাহাড় ধসের ঘটনা সম্পর্কে কাউসার বলেন, ‘গত বছর ১৩ জুন রাতে আমি দোকানে ছিলাম। পাহাড় ধসে আমার দোকানটাও ভাঙে। দোকান থেকে কিছু মালামাল বের করে ফজরের সময় বাসায় ফিরি। তখন ভাই-ভাবির খবর নিতে ওদের বাসায় যাই। গিয়ে দেখি সবাই বসে আছে। পরিস্থিতি দেখে আমি ভাইকে বলি সরে যাওয়ার জন্য। ওরা বিষয়টির গুরুত্ব দেয় না। এর কিছু সময় পরে আমার মামা ও খালু দেখতে আসেন।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনার ১০ মিনিট আগে মিম ও সুমাইয়াকে পাশে বড় ভাইয়ের বাসায় রেখে আসি। মামা বাসা থেকে বের হওয়ার একটু আগে বসে। তখনই পাহাড় থেকে মাটি এসে চাপা দেয় সবাইকে। ঘরে ৫ জন ছিল। আমার খালু আর কাজের ছেলেকে উদ্ধার করা যায়। আমার ভাই-ভাবি আর মামাকে উদ্ধার করা যায়নি এবং তাদের লাশও পাওয়া যায়নি।’
কাউসার জানান, মিম ও সুমাইয়াকে তিনি ও তার বোন দেখাশোনা করছেন। ওদের মা-বাবার মতো স্নেহ-ভালোবাসা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মিমের সেদিনের কথা কিছুই মনে নেই। আমানতবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে সে। তাকে তার আম্মু কোথায় আছে জানতে চাইলে বলে, মাটিচাপা পড়ে মারা গেছে। বাবার কথা জানতে চাইলেও একই উত্তর দেয় সে।
সুমাইয়া ওর নাম বলতে পারে। মা-বাবার কথা জানতে চাইলে বলে, আন্টির বাসায় গেছে। সে আর কিছু জানে না।
গত বছরের ওই দুর্ঘটনার পর এই দুই এতিম শিশুর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। তিনি প্রতি মাসে ওদের জন্য ১০ হাজার করে টাকা পাঠান।
সুমি ও সুমাইয়ার কাকা কাউসার বলেন, “ওরা আমাকে ‘বাবা’ ডাকে। কখনও মনে হয়নি ওরা আমার নিজের সন্তান নয়। ওদের দুজনকে নিজের সন্তানের মতো করে মানুষ করার চেষ্টা করছি।’
ফুপু রিনা বলেন, “ওরা দুজন সব সময় ‘মা’ বলে ডাকে আমাকে। আমরা দুই ভাইবোন মা-বাবার আদর, স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে ওদের বড় করার চেষ্টা করছি। ওরা এখনও কিছু বোঝে না। আমরা চেষ্টা করছি ওদের মানুষের মতো মানুষ করার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘ওরা বড় হয়ে যখন বুঝবে ওদের মা-বাবা কেউ নাই, তখন কবর দেখতে চাইবে। কিন্তু আমরা তো তাদের (সুমি ও সুমাইয়ার মা-বাবা) শেষচিহ্ন রাখতে পারি নাই!’

/এইচআই/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ