পঞ্চগড়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার, সীমান্তের ওপারেও যাচ্ছেন ক্রেতারা

Send
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ,পঞ্চগড়
প্রকাশিত : ১৬:১৫, জুন ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৬, জুন ১৩, ২০১৮

 

পঞ্চগড়ের বাজারগুলোতে চলছে ঈদের কেনাকাটা

রমজান শেষ হতে চলেছে। আর মাত্র দুই বা তিন দিন পরই ঈদুল ফিতর। শেষ মুহূর্তে তাই জমে উঠেছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের ঈদের বাজার। তীব্র গরম উপেক্ষা করে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সববয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে দোকানগুলোতে। তবে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলার ক্রেতারা ঈদের বাজার করতে সীমান্তের ওপারে ভারতের বিভিন্ন জায়গায়ও যাচ্ছেন।





সরেজমিনে দেখা গেছে,পঞ্চগড় জেলা শহরের সেন্ট্রাল প্লাজা, এইচ কে প্লাজা, আফসার প্লাজা, আলোছায়া সুপার মার্কেট, হাজী ম্যানশন মার্কেট, হাজী ইব্রাহিম সুপার মার্কেট, মহসীন মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটের দোকানগুলোতে পোশাক ও কসমেটিকসহ দেশি-বিদেশি সবধরণের জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা দলবেঁধে এ মার্কেট থেকে ও মার্কেট কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাওয়া যাচ্ছে দেশি- বিদেশি সুতি শাড়ি, টাঙ্গাইল, জামদানি, বেনারশি, জর্জেটসহ বিভিন্ন ধরণের শাড়ি। থান কাপড়,শার্ট-প্যান্ট, ওড়না, জুতা, কসমেটিকস ও গহনাসহ সবধরণের জিনিসপত্রের দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা
বিক্রেতারা জানান,থ্রিপিচ,পাঞ্জাবি ও শিশু-কিশোরদের জামা কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে। গরম বেশি হওয়ায় সুতি ও জামদানি কাপড়ের চাহিদা বেশি বলেও জানান বিক্রেতারা।
ক্রেতারা জানান, ঈদ উপলক্ষে জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় কেনা-কাটায় অসুবিধা হচ্ছে না।
শারমিন সুলতানা শিল্পী নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদে নতুন কাপড় না হলে চলেই না। তাই পরিবারের সবাই মিলে পছন্দের কাপড়,শাড়ি,থ্রিপিচ ও পাঞ্জাবি কিনতে বের হয়েছি। তবে অন্য বারের তুলনায় এবার জিনিসপত্রের দাম বেশি বলে মনে হচ্ছে।’

পঞ্চগড়ের মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদেরবাজার
আলহাজ্ব বস্ত্র বিতানের বিক্রেতা বাবু বলেন, ‘বিক্রি খুব ভালো হচ্ছে। এখন যারা কেনাকাটা করছেন তাদের বেশিরভাগই চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও উচ্চবিত্ত। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা আরও পরের দিকে কেনাকাটা করবেন। আশা করি, ঈদ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় অব্যাহত থাকবে।’

 

‘একদর’ বাণিজ্যে প্রতারণা
উৎসব মুখর পরিবেশে জেলা শহরের দোকানগুলোতে ক্রয়-বিক্রি হলেও একদরের দোকানগুলোর দাম নিয়ে অভিযোগ তুলছেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ ‘একদর’ বা ‘ফিক্সড প্রাইস’ নাম দিয়ে কিছু দোকান দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি দাম আদায় করছে।তারা ব্যবসার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

পছন্দের কাপড় দেখাচ্ছেন বিক্রেতা
শিহাব ও সুমাইয়া নামে এক দম্পত্তি জানান, অতিরিক্ত দাম লিখে দিয়ে ‘একদর’ বলে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
তাহেরা আক্তার নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘সাধারণ মানের একটি শাড়ির গায়ে লেখা আছে চারশ ৫০ টাকা।কিন্তু আমি ওই শাড়ি আগে দুইশ’ টাকায় কিনেছি।’

ঈদ বাজার করতে যাচ্ছেন ভারতে
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও রাজধানী ঢাকার অনেক উচ্চবিত্ত লোকজন ঈদ বাজার করতে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ছুটছেন। পণ্যের মান ভালো, যানজটহীন পরিবেশ আর কম খরচে স্বল্প সময়ে কেনাকাটা করতে ভারতের শিলিগুড়ি এবং কোলকাতার বিভিন্ন মার্কেটে যাচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, কোলকাতার নিউমার্কেট, বড় বাজার, চায়না মার্কেট, বিগ বাজার, টালিগঞ্জ, পার্ক সার্কাস, মীর্জা গালিব স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিটসহ বিভিন্ন বাজারে এবং শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট, সিটি মল ও বিগ বাজারসহ বিভিন্ন বিপনিবিতানে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে যান বাংলাদেশিরা।
ন্যায্যমূল্য বস্ত্রালয় ও থ্রিপিচ সেন্টারের দোকানি মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাতায়াত সুবিধা হওয়ায় উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের অনেকেই ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ঈদের কেনাকাটা করছেন। বাংলাদেশের তুলনায় সেখানে পণ্যের দাম কম।’
তুষার ইসলাম নামে ঠাকুরগাঁও শহরের এক বাংলাদেশি ক্রেতা বলেন, ‘রংপুর বা ঢাকায় যেতে যে পরিমাণ কষ্ট হয় তার চেয়ে স্বল্প খরচে কম সময়ে কোলকাতা বা শিলিগুড়িতে গিয়ে মার্কেট করা সম্ভব হয়। তাছাড়া কেনাকাটায় কোনও সমস্যা নেই, যে কোনও পণ্যের দাম কম এবং ঈদ উপলক্ষ্যে কিছু কিছু পণ্যে বিশেষ ছাড় দেওয়ায় ভারতে গিয়ে কেনাকাটা করতে ভালো লাগে।’

সাঈদুর রহমান নামে আরেকজন বলেন,‘ভারত থেকে বৈধ পথে এসব জিনিসপত্র বাংলাদেশে আসলেও অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনতে হয়। বেড়ানো ও কেনাকাটা দুটোই করা যায় এ কারণেই ভারতে গিয়ে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি।’
বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে যাত্রী পারাপার বেড়েছে। প্রতিদিন আড়াইশ থেকে তিনশ যাত্রী ভারতে যাতায়াত করছেন। অন্য সময়ে একশ থেকে দেড়শ যাত্রী যাতায়াত করতো। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় পঞ্চগড় জেলাতো বটেই, পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর জেলা এমনকি রাজধানী ঢাকার সামর্থ্যবানরাও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাচ্ছেন। ভ্রমণের পাশাপাশি ঈদের কেনাকাটা করতে এরা ভারতে যাচ্ছেন বলে মনে করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

/আইএ/এফএস/

লাইভ

টপ