বীরগঞ্জে হত্যাকাণ্ড: গণপিটুনিতে নিহত রবিউল মাদকাসক্ত ছিল দাবি এলাকাবাসীর

Send
বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর
প্রকাশিত : ১৪:০৫, আগস্ট ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৫, আগস্ট ১০, ২০১৮

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন সুরুজ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি। এসময় আহত হন দুইজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গণপিটুনির পর পুড়িয়ে মারা হয় রবিউল ইসলামকে (২৬)। এলাকাবাসীর দাবি, রবিউল সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত ছিল। এর আগেও সে কয়েকজনকে কুপিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ফিরছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলার জগদল ডাঙ্গাপাড়া এলাকার ছেলে সুরুজ মিয়া, বীরগঞ্জ হাটখোলা এলাকার মধুমিয়ার ছেলে নৈশ প্রহরী শহীদ ও তার তিন বছরের ছেলে একরামুল। এসময় একই এলাকার রবিউল তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সুরুজ মিয়া মারা যায়। পরে স্থানীয়রা শহীদ ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনার জেরে সকাল ৬টা থেকে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। পরে সকাল পৌনে ৮টার দিকে এলাকাবাসী রবিউলকে কাহারোল উপজেলার তের মাইল গড়েয়া নামক থেকে ধরে নিয়ে এসে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে বিটুমিন গায়ে ঢেলে তাকে পুড়িয়ে হত্যা করে। এসময় উত্তেজিত এলাকাবাসী রবিউলের বাড়িঘর ও ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করার পর আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে রবিউলের মা রোসনা বেগম ও বোন সুলতানা খাতুনকে আটক করে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ। সকাল ১০টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যানচলাচল স্বাভাবিক করে।

তকে রবিউল কেন ওই তিনজনকে কুপিয়েছিল তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। এদিকে পুলিশও বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

এলাকার সিরাজুল ইসলাম জানান, রবিউল এর আগেও কয়েকজনকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে যার মধ্যে একজন মারাও গেছে। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার পর এলাকাবাসী রবিউলের বাড়িতে গেলে রক্তমাখা কাপড় দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে তাকে গড়েয়া হাট থেকে ধরে নিয়ে এসে মারধর করার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী আগুন ধরিয়ে দিয়ে তাকে হত্যা করে।

স্থানীয় আনারুল ইসলাম নামে একজন জানান, মাত্র আড়াই হাজার টাকার জন্য প্রায় ২ মাস আগে চা দোকানদার বশিরকে ভোরে কুপিয়ে হত্যা করে রবিউল। কিন্তু ভয়ে কোনও অভিযোগ দেয়নি বশিরের পরিবার। গত সোমবারও এক নারীকে কোপায় সে। এই ঘটনায় জড়িত রবিউলের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন গোপাল শীল গোপাল পুলিশকে নির্দেশ দেন তাকে আটক করার। কিন্তু এরপরও কোনও কাজ হয়নি।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজউদ্দিন বলেন, রবিউল বদ প্রকৃতির ছেলে ছিল। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অনেক অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।

বীরগঞ্জ পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমনটি হয়েছে।

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিলা পারভীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিউলের ব্যাপারে এলাকার লোকজন মৌখিক অভিযোগ করেছে, কোন লিখিত অভিযোগ এখনও করেনি। তাছাড়া রবিউলের বিরুদ্ধে এর আগেও কোনও মামলা নেই। তাই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, রবিউল ইসলাম মাদকাসক্ত বলেই তারা জানেন। ’

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এলাকার লোকজন রবিউল ইসলামের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার ও বীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছিল। এলাকাবাসী রবিউল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিতেও বলেছিল। কিন্তু রবিউলের অপরাধ ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় পড়ে না। তাই রবিউল ইসলামকে সাজা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ’

/এআর/

লাইভ

টপ