খানাখন্দে ঝুঁকিপূর্ণ বগুড়া-নগরবাড়ি ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক

Send
আমিনুল ইসলাম খান রানা, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত : ০১:৫৭, আগস্ট ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৭, আগস্ট ১৩, ২০১৮

 

সিরাজগঞ্জের ওপর দিয়ে বগুড়া-নগরবাড়ি ও ঢাকা-রাজশাহী নামে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি মহাসড়ক রয়েছে। এই দুটি সড়কে ভারী যানবাহন চলায় গত এক মাস থেকে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০ কি.মি. অংশে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণ দিয়ে সারাবছরই জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করছে। কিন্তু মাস না ঘুরতেই সেসব উঠে ফের খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় এই দুটি মহাসড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন ও যাত্রীরা।

জানা যায়, গত রোজার ঈদের আগে জেলার বগুড়া-নগরবাড়ি ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে খানাখন্দ ঢাকতে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জোড়াতালির কাজ করে সওজ। কিন্তু কাজ দুর্বল, নিম্নমান এবং দায়সারা হওয়ায় ঈদের পরপরই জেলার দুটি মহাসড়কে ফের খানাখন্দ দেখা দেয়। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে চলছে ঢাকা, খুলনা, যশোহর, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবারও সেসব মহাসড়কে জোড়াতালি দেওয়া হলেও যানবাহন চলাচলে এখনও ঝুঁকি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

এদিকে, জোড়াতালির মেরামতের পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে জমে থাকা পানি অপসারনে অস্থায়ী ড্রেন কাটা নিয়ে গত ক’দিন থেকেই ব্যস্ত রয়েছে সওজ প্রকৌশলীরা। সারা বছর ধরেই মহাসড়কে জোড়াতালির কাজ করলেও ঈদকে সামনে রেখে এবারও তৎপর সওজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের ওপর জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি, শাহজাদপুর বাসস্টপ, পারকোলা, উল্লাপাড়া উপজেলার শ্যামলীপাড়া বাসস্টপসহ আশেপাশে সওজের বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রনের কার্পেটিং কাজের অংশবিশেষ উঠে গেছে। সেসব স্থানে অসংখ্য ছোটবড় গর্তের মধ্যে বৃষ্টির পানি জমা হয়েছে। সওজের লোকজনের মাধ্যমে জোড়াতালি দেওয়া হলেও তা এবরো-থেবরো। এ কারষে যানবাহনে চলাচলে যাত্রীদের ঝাঁকুনি বেড়েছে।

অপরদিকে, রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুরকা ব্রিজ থেকে নিউ জনতা হোটেল পর্যন্ত, জোড়া সেতুর আশেপাশ, চান্দাইকোনা ওমরের স’মিল পর্যন্ত অংশে সওজের জোড়াতালির কাজ আবারও উঠে যাচ্ছে।

এছাড়া, সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল গোলচত্বর মোড়ে গত রোজার ঈদের সময় হেরিংবোন মেরামত কাজের কিছু অংশ উঠে খানাখন্দ হয়েছে। গোলচত্বর থেকে পূর্বদিকে মমতাজ ফিলিং ষ্টেশন থেকে নলকা সেতু পর্যন্ত যেতে মহাসড়কের বাম দিকে বৃষ্টির পানি জমে নতুন করে খানাখন্দের পরিমাণ বেড়েছে। সওজ থেকে গত ক’দিন থেকে মহাসড়কের পাশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে অস্থায়ী ড্রেন খনন করে পানি গড়ানোর চেষ্টা চলছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে খানাখন্দ মেরামতে ঊর্ধ্বতনদের মাধ্যমে সওজকে বার বার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত রোজার আগেও এসব মহাসড়কের অবস্থা বেশ বেহাল ছিল। সেসময় সওজ মেরামত কাজ করলেও ঈদের পরপরই তা উঠে গিয়ে আগেরমতো অবস্থা হয়। খানাখন্দের জন্য ঘনঘন যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।’

সিরাজগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাদি আলমাজি জিন্নাহ বলেন, ‘প্রশাসন শুধু আমাদের বাসের রেজিস্ট্রেশন বা ফিটনেস আছে কিনা, তাই প্রায়ই দেখে থাকেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতও বসান। কিন্তু, মহাসড়কগুলোর যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচলে কতটা ফিট বা ঝাঁকুনিমুক্ত তাও তো দেখা উচিত। কেন সওজ থেকে এসব মহাসড়ক এবরো-থেবরো বা ঝাঁকুনিমুক্ত করা হচ্ছে না, সে বিষয়েও সরকারের গভীর দৃষ্টি দেয়া উচিত।

একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও জেনিন বাস সার্ভিসের মালিক মেজবাহুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে বেহাল অবস্থার কারণে ঘন ঘন চাকা পাল্টাতে হয়। এর ফলে বর্তমানে পরিবহন ব্যবসায় লাভের মুখ দেখাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সম্প্রতি পরিচিতি সভায় মহাসড়কের বেহাল অবস্থার জন্য উদ্বিগ্ন হন। গত ৭ জুলাই জেলা রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি) সভায় জেলা প্রশাসক কামারুন নাহার সিদ্দীকা ঈদের আগে দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য সওজকে তাগিদ দেন বলে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মোঃ আলতাব হোসেন জানান।

সিরাজগঞ্জ সওজের বিভাগীয় প্রকৌশলী জহুরুল ইসলামের দাবি, যেখানেই খানাখন্দ হচ্ছে, সেখানেই দ্রুত মেরামত কাজও করা হচ্ছে। .

নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘ঈদের আগে মহাসড়কে কোনও ধরনের খানাখন্দ থাকবে না।’

/এআর/

লাইভ

টপ