ট্রাফিক সপ্তাহ: সিরাজগঞ্জে হঠাৎ উধাও ফিটনেসবিহীন চার শতাধিক বাস

Send
আমিনুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৭:০৪, আগস্ট ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৪, আগস্ট ১৩, ২০১৮

ঢাকায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মধ্যেই গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ। এ কারণে সারাদেশের মহাসড়ক. আঞ্চলিক সড়ক এবং আভ্যন্তরীণ সড়কে ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাস ও চালকদের বৈধ লাইসেন্স আছে কিনা তা দেখতে শুরু হয়েছে চেকিং। আর এ কারণে সিরাজগঞ্জ জেলার আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী প্রায় চার শতাধিক ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর বাসগুলো হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। এদিকে, জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে হঠাৎ এসব বাস উধায় হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে সহসায় রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না ওইসব ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাসগুলো। গত ক’দিন থেকে জেলা শহর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় চলচলকারী বাসের সংখ্যা অনেকটা কম। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কারণে দেশের অন্যান্য স্থানে ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাস মালিকরা বাধ্য হয়ে বিআরটিএ অফিসে ভিড় করলেও সিরাজগঞ্জে অনেকটাই ব্যাতিক্রম। এখনও টনক নড়েনি জেলার ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাস মালিকদের।

সম্প্রতি জেলা রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি) সভায় জেলা প্রশাসক এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সতর্ক করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মালিকদের পাশাপাশি লাইসেন্স না থাকা চালকদের বিআরটিএ-মুখী করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পরামর্শ দেন ডিসি। কিন্তু, চালকরা সতর্ক হলেও ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন বাস মালিকরা স্থানীয় বিআরটিএ অফিসমুখী হচ্ছেন না বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ট্রাফিক সপ্তাহের কড়াকড়ির কারণে এসব ফিটনেসবিহীন বাস সাময়িক বন্ধ থাকলেও কোরবানির ঈদের আগে ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ নাম দিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে উত্তরাঞ্চল ও ঢাকায় প্রবেশ পথে এসব চলার অপেক্ষায় রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ-ঢাকা কাউন্টার সার্ভিস এবং অভ্যন্তরীণ রুটসহ জেলায় প্রায় সাড়ে ৫০০ বাস চলাচল করছে। কাউন্টার বাস সার্ভিসের রেজিসেট্রশন ও ফিটনেস মোটামুটি থাকলেও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী এসব বাসের বেশিরভাগেরই ফিটনেস নেই। সরকারিভাবে বার বার সুযোগ দেওয়ার পরও বাস মালিকরা বিআরটিএমুখী হননি।

 

 


সিরাজগঞ্জ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই রেজিসেট্রশন ও ফিটনেসবিহীন বাস মালিকরা খেলাপী রয়েছেন। ৪ শতাধিক বাসের লাইসেন্স ও ফিটনেস আপটুডেট করা হলেও প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হতে পারে। দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের কারণে লাইসেন্সের জন্য চালকরা অফিসমুখী হলেও বাস মালিকরা আসছেন না। সম্প্রতি আরটিসি সভায় জেলা প্রশাসক বাস মালিকগদের আবারও সতর্ক করা হয়েছে, তারপরেও তাদের টনক নড়ছে না।’

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। ফিটনেসবিহীন বাসের বিপরীতে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলার অধিকাংশ বাসেরই বৈধ কাগজপত্র নেই। ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে মহাসড়কের হাটিকুমরুল মোড়ে নিয়মিত চেকিং চলছে। যে কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে চলাচলকারী বাসের সংখ্যাও কম।

জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী বলেন, ‘সারাদেশেই চেকিং চলছে। শুধু সিরাজগঞ্জ নয় সবজেলার মালিকরা যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, জরিমানা ও মামলার ভয়ে তারা সড়কে গড়ি বের করছেন না।’

জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘অধিকাংশ বাসেরই রেজিস্ট্রেশন আছে। কিন্তু নিয়মিত নবায়ন না করায় ডেট ফেল হয়েছে। বাস মালিকদের বার বার তাগিদও দেওয়া হচ্ছে। ’

সমিতির সভাপতি আব্দুল হাদি আলমাজি জিন্নাহ বলেন, অধিকাংশরই রেজিস্ট্রেশন থাকলেও সময়মতো নবায়ন না করায় জরিমানাও ধার্য হয়েছে অনেক। আগের মতো ব্যবসা না থাকায় বর্তমানে অধিকাংশ মালিকরাই বিপদে পড়েছেন। ইচ্ছে থাকার পরও জরিমানার কারণে কাগজপত্র আপটুডেট করা সম্ভব হয়নি। জরিমানা মওকুফের জন্য আরটিসি সভার মাধ্যমে সরকারের কাছে বার বার অনুরোধ জানিয়েছি। জরিমানা মওকুফ করা হলে সবকিছুই আপটুটেড করা সম্ভব হবে।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ফিরোজ মাহমুদ বলেন, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার গত ৭ আগস্ট আরটিসি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। আদেশ যারা পালন করবে না তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে উপযুক্ত সাজা ও জরিমানা নিশ্চিত করণের জন্যও সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়।’

/এআর/

লাইভ

টপ