মিয়ানমার থেকে আসছে বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু

Send
টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৭:৪৯, আগস্ট ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৩, আগস্ট ১৩, ২০১৮

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সমুদ্র পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে আসছে বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু। তবে এবার সেখান থেকে মহিষের চেয়ে গরু আসছে বেশি। বৈরি আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকদিন পশু আমদানি বন্ধ থাকলেও শনিবার থেকে প্রচুর পরিমাণে পশু আসছে মিয়ানমার থেকে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার (১১ আগস্ট) সুমদ্র পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে ছোট-বড় পাঁচটি ট্রলারবোঝাই কোরবানি পশু টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর জেটি ঘাটে এসে পৌঁছে। ওইসব ট্রলারে করে মো. ইসলাম, মো. শফিক, মনিরুল জ্জামান, হাসান আহমেদ ও মো. কবির ৬৭৭টি পশু আমদানি করে। এর মধ্যে ৪০৭টি গরু। এতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা। এর আগের দিন ২৭২টি কোরবানি পশু দেশে আসে।

শনিবার একটি ট্রলারে ৭৮টি গবাদিপশু আসে আমদানিকারক মোহাম্মদ ইসলামের কাছে। তিনি বলেন, সমুদ্র উত্তালের কারণে মিয়ানমার থেকে বেশ কয়েকদিন কোরবানি পশু বন্ধ ছিল। তবে শনিবার সকালে ৭৮টি পশু আসে। এর মধ্যে ৪৫টি গরু। এসব পশু ৫০ হাজার টাকা করে বেপারিদের কাছে বিক্রি করেছি। এর আগে এসব গরু বিক্রি করছিলাম ৪০ হাজার টাকা করে। এখন প্রতি গরুর দাম ১০ হাজার টকা বেশি পেয়েছি। কোরবানির আগে আরও ১ হাজার পশু আমদানি করার কথা রয়েছে। একই দিন পশুবোঝাই আরও চারটি ট্রলার আসে মিয়ানমার থেকে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ শুল্ক স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘কোরবানির ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। দেশের চাহিদা পূরণে পশু আমদানি অব্যাহত রয়েছে।। চলতি আগস্ট মাসের ১১ দিনে ৪ হাজার ২৭৬টি গবাদি পশু আমদানি হয়। এরমধ্যে গরু ৩ হাজার ২২টি, মহিষ ১ হাজার ২৫৪টি। যার বিপরীতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তাছাড়া জুলাই মাসে এসেছে ৬ হাজার ১০৬টি পশু।’

টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ মনির বলেন, ‘শুরুতে গত বছরের তুলনায় মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি কম হয়েছে। তবে শনিবার থেকে আবারও পশু আমদানি বেড়েছে। এবারে মহিষের চেয়ে গরুর সংখ্যা বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি হলেও করিডোরে কোনও ব্যাংক ও কাস্টম অফিস নেই। এছাড়া নেই পশু রাখার সুব্যবস্থা। গত চার বছরের বেশি সময় ধরে টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। তবুও কোরবানি পশু চাহিদা পূরনে মিয়ানমার থেকে আরও ৩০ থেকে ২৫ হাজার পশু আমদানির টার্গেট রয়েছে পশু আমদানিকারিদের। এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা টেকনাফে আসতে শুরু করেছে।’

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গরু ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও টেকনাফ থেকে গরু কেনার জন্য এসেছি। তবে এই বছর ব্যবসা ভালো হবে না বলে মনে হচ্ছে। কারণ এই বছর শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে গরুর দাম চড়া। গত বছর যে গরু ৬০ হাজার টাকা ছিল এই বছর সে গরুর দাম ৮০ হাজার টাকার বেশি।’
গরু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, কোরবানি উপলক্ষে পশু আমদানি ক্রমাগত বাড়ছে। যেসব পশু মিয়ানমার থেকে আনা হচ্ছে সেগুলো ব্যবসায়ীরা কিনে এখন থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গরু ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখান থেকে পশু সরবরাহের ক্ষেত্রে পথে যেন কোনও ধরনের চাঁদাবাজি না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।’

র‌্যাব-১ টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. মির্জা শাহেদ মাহতাব বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করার জন্য ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সীমান্তে ব্যবসায়ীদের যাতে পশু আনার সময় কোনও ধরনের সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গরু আসার সময় যাতে অস্ত্র ও মাদক না আসতে পারে, সেদিক বিবেচনা করে সীমান্তে র‌্যাব সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

/এআর/

লাইভ

টপ