আজ ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি: কয়লা খনি আন্দোলনে নিহত হয় তিনজন

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:১০, আগস্ট ২৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৫, আগস্ট ২৬, ২০১৮

দিনাজপুরআজ ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস। ২০০৬ সালের এই দিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে ফুলবাড়ী থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করে ফুলবাড়ীর মানুষ। ওই সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশ ও বিডিআর গুলিবর্ষণ করলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ৩ জন। আহত হয় দুই শতাধিক।

তবে ঘটনার একযুগেও পূরণ হয়নি ফুলবাড়ীবাসীর ৬ দফা চুক্তি। ঘোষিত ৬ দফার পাশাপাশি সম্প্রতি কয়লা ও পাথর লুটপাটের ঘটনায় জড়িতের শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা।

২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে ফুলবাড়ী থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল থেকেই ফুলবাড়ীর ঢাকা মোড়ে ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে থাকে। দুপুর ২টার দিকে তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ও ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নিমতলা মোড়ের দিকে এগুতে থাকলে প্রথমে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধায় বিশাল মিছিলটি জঙ্গিরূপ ধারণ করে। মিছিলটি পুলিশ-বিডিআরের ব্যারিকেড ভেঙে এগুতে থাকলে আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণ করা হয়। বিডিআরের গুলিতে এ সময় নিহত হয় আল আমিন, সালেকীন ও তরিকুল। আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। আহতদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এরপর ফুলবাড়ীবাসী ধর্মঘটের মাধ্যমে এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। বাধ্য হয়ে তৎকালীন সরকার ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার, দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা যাবে নাসহ ৬ দফা চুক্তি করে। এরপর এলাকাবাসী ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।

৬ দফা চুক্তির মধ্যে ছিল- আন্দোলনে নিহত ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি করা হবে না, এশিয়া এনার্জি (জিসিএম) কোম্পানিকে চিরতরে দেশ থেকে বহিষ্কার করা, আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা, গুলিবর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
চুক্তির একযুগ হয়ে গেলেও এখনও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি ৬ দফা। এতে হতাশ ওই এলাকার জনগণ।

ফুলবাড়ী এলাকার লোকজন জানান, বাপ-দাদার জমি, ভিটেমাটি ছেড়ে কোনোভাবেই তারা অন্য কোথাও যেতে চান না। এ কারণেই ২০০৬ সালে আন্দোলনে ৩ জন প্রাণ দিয়েছিল। আহত হয়েছিল অনেকেই। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নেয়নি। এখনও ফুলবাড়ীকে নিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে। তবে যত চক্রান্তই হোক, অতীতের মতো আবারও আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি তাদের। সেই সঙ্গে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে কোমরের নিচ পর্যন্ত অবশ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বাবলু রায়। তিনি জানান, সেই সময়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু এখন ক্ষমতায় এসে তিনি ফুলবাড়ীবাসীর দাবি বাস্তবায়ন করছেন না। অনতিবিলম্বে তাদের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান তিনি।

তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, ফুলবাড়ী শাখার সাবেক সদস্য সচিব এসএম নুরুজ্জামান জানান, বুকের রক্ত ও তাজা প্রাণ দিয়ে ৬ দফা চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির বাস্তবায়ন তো হয়নি; বরং এখন লুটপাট হচ্ছে কয়লাসহ খনিজ সম্পদের। লুটেরা কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকার কয়লা গায়েব করেছে, পাথর গায়েব করেছে। ফুলবাড়ী তথা দেশের সম্পদ যারা এভাবে লুট করেছে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে রাজপথ ছাড়া হবে না। সেই সময়ে ফুলবাড়ী রক্ষায় আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছিলেন বর্তমান ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক। ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ী রক্ষা আন্দোলনে ৩ জন নিহত ও অনেকেই আহত হয়। ৬ দফা যে চুক্তি হয়েছিল তার বেশিরভাগই এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। আহত ও নিহতদের বিষয়ে যে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে তা একযুগেও আলোর মুখ দেখেনি।

ফুলবাড়ীবাসীকে নিয়ে আবারও চক্রান্ত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবারও চক্রান্ত হলে ফুলবাড়ীবাসী তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

দিবসটি উপলক্ষে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

/জেবি/এমওএফ/

লাইভ

টপ