ঢাকার কেরানীগঞ্জের কুন্ডা ১০ শয্যা হাসপাতাল মুখ থুবরে পড়ে আছে। গত ১২ বছরেও এই হাসপাতালটি সচল করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় একদিকে যেমন কুন্ডা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ধবংসের দাঁড়প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, গত বিএনপি সরকারের আমলে কুন্ডা ইউনিয়নের দোলেশ্বর গ্রামে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর পৈত্রিক বাড়ির অদূরে এই ১০ শয্যা হাসপাতালটি নির্মিত হয়। ২০০৬ সালের ৭ জুলাই সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর কিছুদিন হাসপাতালটি ভালোভাবেই চালু থাকলেও পরে এটি মুখ থুবরে পড়ে। ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এই হাসপাতালের দিকে আর কোনও নজর দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে একজন উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে কোনোরকমে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে এখানে কোনও রোগী আসতে দেখা যায়নি। হাসপাতালে একটি পুরুষ ও একটি মহিলা ওয়ার্ড থাকলেও সেখানে রোগীতো দূরের কথা, কোনও বেড নেই। ডাক্তার, নার্স, প্রশাসনিক লোকজন ও নিরাপত্তাকর্মী কিছুই নেই সেখানে। এছাড়া আবাসিক ভবনে ২-৩ বার ডাকাতি হওয়ায় সেখানেও কেউ আর থাকেন না। ফলে এই হাসপাতালে এখন চলে মাদকসেবীদের আড্ডা।
এদিকে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন সচল না হওয়ায় কুন্ডা ইউনিয়নের লোকজন বাধ্য হয়ে দূরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হাসপাতালের করুন অবস্থা। এলাকাবাসীর দাবি, হাসপাতালটি যত দ্রুত সম্ভব যেন সচল করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, কুন্ডা ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপতালটি দীর্ঘদিন এভাবে অবকাঠামো তৈরি হয়ে আছে। ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের যে জনবলের দরকার তা এখানে না থাকায় হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হয়নি। সরকার ১০ শয্যার হাসপাতালগুলো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জনবল সংস্থানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। জনবলের পাশাপাশি রোগী ভর্তি ও তাদের খাবার ও ওষুধপত্রের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে আশ্বাস পেয়েছি। শিগগিরই এসবের সংস্থান হবে।’
হাসপাতালে কর্মরত উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘হাসপতালটি চরম নিরপত্তাহীনতায় আছে। কয়েকবার এখানে ডাকাতি ও চুরি হয়েছে। এই জন্য কোনও স্টাফ এখানে থাকতে চায় না। আমি সঙ্গে একজন ফার্মাসিস্ট এখানে পেশনে আছি। অন্য জায়গা থেকে কয়েকটি চেয়ার টেবিল ধার করে এনে বসার ব্যবস্থা করেছি। রিলিফের কিছু ওষুধপত্র এনে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে।’
হাসপাতালে কর্মরত ফার্মাসিস্ট মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সঠিক জনবল ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই হাসপাতালটির এই করুন দশা। আমি হাসপাতালের আবাসিক ভবনে থাকতাম। কিন্তু আমার বাসায় ডাকাতি হওয়ায় আমি এখানে আর থাকি না।’








