ঝিনাইদহে ৬ উপজেলার ৪টিই চালাচ্ছেন নারীরা

Send
নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত : ০৬:২১, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৫, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

শাম্মী ইসলাম, সুবর্ণা রানী সাহা, নাজনীন সুলতানা ও শাশ্বতী শীল (ছবি– প্রতিনিধি)ঝিনাইদহে মোট উপজেলা ৬টি। এর মধ্যে ৪টিতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। তারা দক্ষতার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের দাফতরিক কাজ সামলাচ্ছেন। এ ছাড়া, বাল্যবিয়ে-যৌতুক বন্ধের পাশাপাশি নিজ নিজ উপজেলাকে মাদক-দুর্নীতি-জঙ্গিমুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখছেন। এমনকি, পরিবেশ উন্নয়নেও তারা নানা ভূমিকা রাখছেন।
ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা হলো– সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকুণ্ডু ও শৈলকুপা। শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু ছাড়া বাকি চার উপজেলা প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন চার নারী।
শাম্মী ইসলাম ও সুবর্ণা রানী সাহা (ছবি– প্রতিনিধি)সদরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাম্মি ইসলাম। ২৮তম বিসিএস–এ উত্তীর্ণ হয়ে গত বছরের ১৬ জুলাই ঝিনাইদহ সদরে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কালীগঞ্জে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুবর্ণা রানী সাহা। ৩০তম বিসিএস–এ উত্তীর্ণ হয়ে তিনি এ বছরের ৯ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কোটচাঁদপুরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজনীন সুলতানা, যিনি ২৯তম বিসিএস–এ উত্তীর্ণ হয়েছেন। ২৯তম বিসিএস–এ উত্তীর্ণ শাশ্বতী শীল এ বছরের ২৫ জুলাই থেকে মহেশপুরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই চার নারী ইউএনও প্রশাসন সামলানোর পাশাপাশি নিজ নিজ উপজেলার শিক্ষা পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। প্রায় প্রতিদিনই ছুটছেন এ স্কুল থেকে সে স্কুলে। সমস্যার তথ্য নিচ্ছেন, এর সমাধানেও কাজ করছেন। এ ছাড়া, বাল্যবিয়ের খবর পেলে তা বন্ধ করার জন্য তারা ছুটে যাচ্ছেন। উপজেলাগুলোর পরিবেশের উন্নয়নেও তারা ভূমিকা রাখছেন; নিচ্ছেন নানা উদ্যোগ।
সদরের ইউএনও শাম্মী ইসলাম বলেন, ‘নারীরা সাহসিকতার সঙ্গে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন। আমার সদরে অনেক কাজ হয়েছে, হচ্ছে। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বের পুরোটাই পালন করার চেষ্টা করি আমি।’
নাজনীন সুলতানা ও শাশ্বতী শীল (ছবি– প্রতিনিধি)মহেশপুরে ইউএনও শাশ্বতী শীল বলেন, ‘নারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বাঁধার সম্মুখীন হইনি। আমার যোগদানের বেশিদিন হয়নি। দাফতরিক কাজের পাশাপাশি উপজেলার শিক্ষা, পরিবেশ উন্নয়নে কাজের আগ্রহ আছে। এরই মধ্যে কিছু উদ্যোগও নিয়েছি।’
কোটচাঁদপুরের ইউএনও নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘যে কাজেই হাত দিচ্ছি, সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। কাজ করতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না।’
কালীগঞ্জের ইউএনও সুবর্ণা রানী সাহা বলেন, ‘দাফতরিক কাজের বাইরে উপজেলার মানুষের, তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে যাই করি, খুবই ভালো লাগে। আমার কাজে সবাই সহযোগিতা করে। এটা অটুট থাকলে আরও নানা কাজ করে যেতে পারবো।’
এ চার উপজেলা ছাড়া হরিণাকুণ্ডুতে ইউএনও হিসেবে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শৈলকুপায় ইউএনও হিসেবে উসমান গনি দায়িত্ব পালন করছেন। তারাও নানা কাজের মাধ্যমে নিজ নিজ উপজেলার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।

/এমএ/

লাইভ

টপ