নানা আয়োজনে সুনামগঞ্জে আব্দুল করিমের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

Send
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৩৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান করেন শিল্পীরা১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের নবম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে হাসনরাজা মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে শাহ আব্দুল করিমের স্মরণে গানের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতি সংগঠনের শিল্পীরা অংশ নেন।

আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গান করছে এক মেয়েজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহসভাপতি প্রদীপ পাল নিতাইয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। বক্তব্য রাখেন– কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল, জেলা গীতিকার ফোরামের সভাপতি বাউল শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক অরুণ তালুকদার, সদর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক সন্তুষ কুমার চন্দ মন্তুস প্রমুখ।

আব্দুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গান করছে ছেলেরা।আলোচনা সভায় বক্তারা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের স্মৃতিময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, শাহ আব্দুল করিম কঠোর জীবন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দেশের মেহনতি ও বঞ্চিত মানুষের কথা গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তার গানে ফুটে ওঠেছে প্রান্তজনের কথা, দেশের স্বাধীনতার কথা। দেশের সীমানা পেরিয়ে শাহ আব্দুল করিমের গান বিশ্ব সংগীতের আসরে স্থান করে নিয়েছে। তার গান বাংলা ভাষাভাষী সব দেশে সমাদৃত। তাঁর স্মৃতি রক্ষায় প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।

আব্দুল করিমের মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কথা বলছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।অন্যদিকে, বাউল করিমের জন্মস্থান উজান ধলগ্রামবাসীর আয়োজনে ও বাউল শাহ আব্দুল করিম পরিষদের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৮টায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম তার সৃষ্টির মাধ্যমে কোটি মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি একাধারে শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও মরমি দার্শনিক ছিলেন। তাঁর রচিত গান বিশ্বে স্থান করে নিয়েছে। বাউল সম্রাটের স্মৃতি রক্ষায় জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে ।’ নুতন প্রজন্ম যাতে শুদ্ধভাবে শাহ আব্দুল করিমের সংগীত চর্চা করতে পারে সেজন্য শাহ আব্দুল করিম সংগীতালয় সংস্কার ও বাউলের বাড়ির পাশে কালনী নদীর তীরে একটি নান্দনিক ঘাট নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক।

বাউল সম্রাটের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনবাউল করিমের বাড়িতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বাউল পুত্র শাহ নূর জালালের সভাপতিত্বে প্রবীণ শিক্ষক বিশ্বজিৎ চৌধুরীর পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লোক গবেষক সৈয়দা আখি হক, দিরাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল আলম, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম, দিরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ চৌধুরী প্রমুখ। পরে রাত সাড়ে নয়টা থেকে বাউল গান পরিবেশ করেন শাহ আব্দুল করিমের শিষ্য বাউল আব্দুর রহমান, রণেশ ঠাকুর, সিরাজ উদ্দিন, দুখু মিয়া, প্রাণকৃষ্ণসহ স্থানীয় বাউল শিল্পীরা।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ