চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ায় আহত ৮

Send
চবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:২৭, অক্টোবর ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৮, অক্টোবর ১১, ২০১৮

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় মিছিলে যোগ দিতে এসে দফায় দফায় ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। এতে উভয় গ্রুপের আট জন আহত হয়েছে। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসের সামনে এবং পরে বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে বিবাদের ঘটনা ঘটে। বিবাদমান দুই গ্রুপের একটি হলো শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার’ (সিএফসি) এবং ‘বিজয়’। উভয় গ্রুপই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিএফসি’ গ্রুপের নেতৃত্ব দেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জামান নূর এবং ‘বিজয়’ গ্রুপের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন।

আহতরা হলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাদ্দাম হোসেন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাসিম চৌধুরী, একই বর্ষের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মোহাইমিনুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সেভেন সেমিস্টারের ছাত্র রিদুয়ান ইবনে সাত্তার, আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাদাফ কবির, ইসলামিক স্টাডিজের মাস্টার্সের ছাত্র শরীফুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাসিম আল সিয়াম, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আবু নাহিয়ান রাফি। এদের মধ্যে সাদ্দাম, নাসিম, মোহাইমিনুল, রিদুয়ান বিজয় গ্রুপ এবং সাদাফ, শরীফ, সিয়াম এবং রাফি সিএফসি গ্রুপের অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দুইটার দিকে ‘বিজয়’ গ্রুপের কর্মীরা বিজয় মিছিল বের করে। মিছিল শেষ করে তারা সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য তারা প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রক্টর অফিসের বাইরে অবস্থানরত বিজয় গ্রুপের জুনিয়র কর্মীদের সাথে সিএফসি গ্রুপের জুনিয়রদের কথা কাটাকাটি হয় এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে উভয় পক্ষের দুই জন আহত হয়। এসময় কলা অনুষদের বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করে উভয় গ্রুপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রক্টর উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির মীমাংসা করে।

কিন্তু বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে উভয় গ্রুপ আবারও সংঘর্ষে জড়ালে আহত হয় ছয় কর্মী। এসময় দুই গ্রুপই দেশি অস্ত্র হাতে নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরে পুলিশ উভয় গ্রুপের মধ্যখানে অবস্থান নিয়ে বিজয় গ্রুপকে সোহরাওয়ার্দী এবং সিএফসি গ্রুপকে আমানত হলের দিকে সরিয়ে দেয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে শরীফের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা ফজলে রাব্বি সুজন বলেছেন, ‘যৌন নির্যাতন ও সাংবাদিকদের মারধরে জড়িত ওরা শিবিরের এজেন্ট। এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চাপা দিতে এসব অপরধীরা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত। প্রশাসন যদি অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে প্রয়োজন হলে আমরাই আইন হাতে নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা জামান নূরের ভাষ্য, ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রদানের দিন শিবির কর্মীরা আমাদের উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি একবার শান্ত করার পর সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে আবারও ঝামেলায় জড়িয়েছে তারা। এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের বিষয়ে হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, ‘ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।’

/এএমএ/

লাইভ

টপ