শেখ হাসিনাকেই কারাগারে যেতে হবে: মঞ্জু

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:২৩, অক্টোবর ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৪, অক্টোবর ১১, ২০১৮

খুলনায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘গত ১০ বছরে দেশে যত নারকীয় হত্যাকাণ্ড, খুন, গুম, দুর্নীতি, অনিয়ম, দুরাচার, স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে, তার জন্য শেখ হাসিনার বিচার হবে এবং তাকে কারাগারে যেতে হবে। শেখ হাসিনা জানেন আবারও ক্ষমতায় যেতে না পারলে তার পরিণতি কী হবে। এ জন্য যেকোনও উপায়ে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে তারা মসনদ দখলের পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর তারা পাবেন না। আগামী এক মাসের ভেতরে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে এবং জনগণের বিজয় হবে।’

বুধবার ঘোষিত রায়ের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন।

বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশস্থলের আশপাশে সকাল থেকেই ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশের কর্ডন। প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যে দলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড হয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন। নগরীতে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশের তল্লাশি ও গণগ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে এবং গায়েবি মামলা দায়ের করা হচ্ছে অভিযোগ করে এর নিন্দা জানান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘সরকার পুলিশের ওপর ভর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গেলে পুলিশের আচরণ বদলে যাবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশে গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করা হয়, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, বাকশাল কায়েম করে সবাইকে বাকশাল করতে বাধ্য করা হয়।’

মঞ্জু বলেন, ‘সরকার জোর করে গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আগাম আদায় করেছে, যাতে নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী এক মাস এ নিয়ে তারা মিথ্যাচারে লিপ্ত থাকতে পারে। তারা তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালাবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধৈর্য নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল এবং বারবার জনগণের ভোটে দলটি ক্ষমতায় আসে। এ জন্য তাদের মানুষ হত্যা করতে হয় না। বরং আওয়ামী লীগকেই ক্ষমতায় আসার জন্য এবং ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মানুষকে হত্যা করতে হয়।’ নির্বাচনের আগে এই সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ ও নতুন কমিশন গঠন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ বিএনপির ৭ দফা মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

শেখ সাদির পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন সাবেক এমপি শেখ মুজিবর রহমান, জাফর উল্লাহ খান সাচ্চু, মোল্লা আবুল কাশেম, রেহানা আক্তার, স ম আব্দুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, ফখরুল আলম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, মেহেদী হাসান দীপু, মহিবুজ্জামান কচি, আজিজুল হাসান দুলু, ইকবাল হোসেন খোকন, সাদিকুর রহমান সবুজ, এহতেশামুল হক শাওন, জালু মিয়া, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, মাসুদ পারভেজ বাবু, কে এম হুমায়ুন কবির, একরামুল হক হেলাল, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ।

আরও পড়ুন- রায় ‘ফরমায়েশি’, বিএনপির প্রত্যাখ্যান

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ