যে ১২ শর্তে রাজশাহীতে সমাবেশের অনুমতি পেল ঐক্যফ্রন্ট

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:৪৭, নভেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৭, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

সমাবেশের জন্য তৈরি মঞ্চ১২টি শর্তে আজ শুক্রবার (৯ নভেম্বর) রাজশাহীতে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় এ সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। এদিকে, ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন ছাড়া অন্য নেতারা সমাবেশে যোগ দিতে দুপুর ১২টার দিকে বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির দফতর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম ডিকেন।

সমাবেশের জন্য আরএমপি’র ১২ শর্তের মধ্যে রয়েছে—সমাবেশে রাষ্ট্রবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কোনও বক্তব্য ও বিবৃতি দেওয়া যাবে না। সমাবেশস্থলে দুপুর দুইটার আগে প্রবেশ করা যাবে না। সমাবেশস্থল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাইক বা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে। তবে শহরের অন্যত্র ব্যবহার করা যাবে না। আজান ও নামাজের সময় আলোচনা বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়াও ভেন্যুর বাইরে প্রজেক্টর ব্যবহার করা যাবে না। সমাবেশের নিরাপত্তা আয়োজক কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। সমাবেশে যাওয়ার পথে কোনও প্রকার লাঠি, ফলা, তীর, অস্ত্রশস্ত্র কিংবা লাঠি সংযুক্ত ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি বহন করা যাবে না। সেইসঙ্গে কোনও ধরনের বৈধ অস্ত্রও বহন করা যাবে না। সমাবেশে আগত গাড়িগুলো শহরের ভিতরে পার্কিং করা যাবে না। অন্য কোনও ব্যক্তির, গোষ্ঠীর অনুভূতিতে আঘাত করে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে, এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য, স্লোগান দেওয়া যাবে না। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘সরকার ও পুলিশ বিভাগের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে। বুধবার বিকাল ৪টায় আরএমপি কমিশনার নগরীর গণকপাড়া মোড়ে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জনদুর্ভোগের বিষয় নিয়ে পুনরায় কমিশনারকে বললে ১২টি শর্ত জুড়ে দিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে কমিশনার।’

ঐক্যফ্রন্টকে দেওয়া ১২ শর্তের চিঠিমিজানুর রহমান মিনু আরও বলেন, ‘সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকাতেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তারপরও এই সমাবেশ সফল হবে এবং এখান থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের গণআন্দোলন শুরু হবে।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ‘সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে আমরা পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সমাবেশস্থলে মাঠ প্রস্তুত করা, মঞ্চ তৈরি ও ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাইক লাগানোর কাজও শেষ হয়েছে।’

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেন, ‘সমাবেশ যাতে সফল না হয় সেজন্য বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিলে যৌথ মহড়া দিচ্ছে।’

সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে মহানগরীতে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইফতেখার আলম বলেন, ‘সমাবেশ কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ও নাশকতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নগরীজুড়ে টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ। সমাবেশস্থলেও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সমাবেশস্থলে ঢোকার আগে চেক করে ঢোকানো হবে। এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

 

/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ