গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আগুন

Send
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৫২, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩১, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

আগুনে পুড়ে গেছে চেয়ারগাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পেট্রোলের বোতল জব্দ করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোডে বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কেউ ছিল না। এ সময় অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে চেয়ারে আগুন দিয়েই পালিয়ে যায়। এতে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার পুড়ে যায়।

দলীয় কার্যালয়ে আগুনের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দাবি করছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুল। তিনি বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গাইবান্ধা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এ কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে কোনও মহল এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে এ ঘটনা যারাই ঘটাক তারা গণতন্ত্রের বিকাশ চায় না।’

জেলা বিএনপির সদস্য তাহেরুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ আসনে দল থেকে খন্দকার আহাদ আহমেদ, মাহামুদুন্নবী টিটুল ও জাপা থেকে আসা আবদুর রশিদ সরকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান আব্দুর রশিদ সরকার।’ ফলে মনোনয়ন বঞ্চিত বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনে কয়েকটি চেয়ার পুড়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পেট্রোলের বোতল জব্দ করা হয়েছে। তবে আগুনে ভবনের অন্য কোনও ক্ষতি হয়নি।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খন্দকার আহাদ আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনে এমন চর্চা কখনও দেখেনি। এ ঘটনায় বিস্মিত হওয়া ছাড়া কিছুই বলার নেই। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজ দলের যেসব নেতা প্রতিপক্ষের হয়ে মামলা করেন, টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করেন, গণতন্ত্র চর্চার রাজনীতি না করে অপরাজনৈতিক মনোভাব প্রতিপালন করেন, তারাই এটা ঘটাতে পারে। দলের ত্যাগী, নির্যাতিতদের বাদ দিয়ে ভুল সিদ্ধান্তে দল বহিরাগত নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনগণের রায় কী হবে তার দায়দায়িত্বও সেই অপরাজনৈতিক নেতাদেরই নিতে হবে।’

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খন্দকার আহাদ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুল ও জাপা থেকে ছেড়ে আসা সাবেক এমপি ও জেলা জাপার সভাপতি আবদুর রশিদ সরকার। এর আগে আবদুল রশিদ সরকারকে দলের মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ