খাগড়াছড়িতে ১৮৭ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬৪টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ (পুলিশের ভাষায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি নতুন কেন্দ্রসহ মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৭টি। মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮২৯টি। ২ লাখ ১৫ হাজার ৩০৭ নারী ভোটার এবং ২ লাল ২৬ হাজার ৫৩৬ জন পুরুষ ভোটারসহ মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৩ জন। ১৮৭টি কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ১হাজার ১১৭জন পুলিশ সদস্য, ২ হাজার ২৪৬জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ৬৪০জন গ্রাম পুলিশ সদস্য, ৫৭৫জন্য বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ১২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ২টি স্ট্যান্ডবাই স্ট্রাইকিং ফোর্স, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত, ২টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন থাকবে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। কিন্তু শোনা যাচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকায় ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থক ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোট কেন্দ্র দখল করতে পারে। বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাই।’
বিএনপির প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ভুইয়া ও ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নতুন কুমার চাকমা অনেক একই ভাষায় অভিযোগ করেছেন সরকার দলীয় প্রার্থীর বিরূদ্ধে। তারা উভয়েই দাবি করেন, ৮২৯টি ভোটকক্ষে তারা তাদের এজেন্ট পর্যন্ত দিতে পারছেন না। যেসব এজেন্টের তালিকা ইতোমধ্যে তারা জমা দিয়েছেন তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, অনেককে মামলা না থাকার পরও গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। ভোটারেরা ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা উভয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আবদুল জব্বার গাজী সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও কোন দলের নেতাকর্মীদের বিরূদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেননি।
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীরা একে অপরের বিরূদ্ধে অভিযোগ করছেন এটা সত্য। তবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। কেউ আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে কমিশন কাউকে ছাড় দেবে না। আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোরভাবে বেআইনি কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।’
এই বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক নিরাপত্তা বাহিনীর সকল সদস্য কাজ করবে।’ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আশ্বাস জানান তিনি।








