পলাশবাড়ীতে পঞ্চমবারের মতো ঘোড়দৌড়

Send
জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা
প্রকাশিত : ১১:০০, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৪, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

পলাশবাড়ীতে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাহারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্যের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পঞ্চমবারের মতো গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। স্থানীয় ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অন্তত ২৪টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ঘোড় দৌড় উপভোগ করতে ভিড় করেন শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক।

এখনও বেশ জনপ্রিয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা। তবে নানা জটিলতায় খুব একটা চোখে পড়ে না ঘোড় দৌড় খেলার। উপলক্ষ পেলেই যেন ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে উপচে পড়া দর্শক উপস্থিতি। যার ব্যতিক্রম ছিলোনা গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে।g2

পঞ্চমবারের মতো পলাশবাড়ীর মহদিপুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের আমন ধানের ফাঁকা মাঠে শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদের আয়োজনে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ছোট-বড় মিলে ২৪টি ঘোড়া। স্থানীয়দের পাশাপাশি রংপুর ও দিনাজপুর জেলারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে প্রতিযোগীরা। বেশ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে চলে ঘোড়দৌড়।

প্রতিযোগিতা ঘিরে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ও সাজসাজ রব গোটা এলাকা জুড়েই। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। বাদ যায়নি শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধরাও। উৎসবের আমেজ তৈরি হয় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে। প্রতি বছর এর ধারাবাহিকতাসহ আরও বেশি আয়োজনের দাবি জানান তারা।

ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করে ইদিলপুর গ্রামের সত্তর বছরের আবদুল হক বলেন, ‘আগে কত খেলা হতো। কিন্তু এখন আর খেলা দেখাই যায় না। ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতার কথা শুনে তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে এসেছি। চমৎকার এই খেলা দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি।’

বাবার সাথে খেলা দেখতে আসে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা খাতুন। সুমনা জানায়, জীবনে প্রথম ঘোড় দৌড়ে দেখে তার অনেক অনেক ভালো লাগছে। এমন খেলার বেশি বেশি আয়োজনের দাবি জানায় সুমনা।g3

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ঘোড়ার মালিক মালেক মিয়া বলেন, ‘বাদ-দাদার ঘোড়া ছিল। গ্রামের বিভিন্ন ঘোড়দৌড়ে তারা অংশ নিয়েছিলেন। নিজেদের ঘোড়া থাকায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ডাক পাই। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বেশ ভালো লাগে। তবে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মনের খোরাক মিটলেও পেটের খিদে মেটে না। তবে এমন আয়োজন বেশি ও ঘোড়া মালিকদের সহযোগিতা করার দাবি জানাই।’

আয়োজক মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গ্রাম বাংলায় দিনদিন আধুনিক প্রযুক্তির ছোয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এসব গ্রামীণ খেলাধুলা। তবে খেলাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও নিজ উদ্যোগেই প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা আয়োজনে অনেকটা কাঠখড় পোড়াতে হলেও ঐহিত্য ধরে রাখতে জনপ্রিয় এই আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই আমি।’

প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার বলেন, ‘এমন প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ায় আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। বিলুপ্তির হাত থেকে অবহমান গ্রাম বাংলার ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাসহ ঐহিত্যবাহী খেলাগুলো ফিরে আসা উচিত।’ এসব খেলাধুলা ঠিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তিনটি গ্রুপভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ছয়জন। পরে বিজয়ীসহ অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

 

/এফএস/

লাইভ

টপ