রাজবাড়ীতে চালকুমড়ার বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত গৃহিণীরা

Send
তানভীর মাহমুদ, রাজবাড়ী
প্রকাশিত : ১৪:৫৫, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৬, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

কুমড়া-বড়ি খুব জনপ্রিয় একটা খাবার। বিশেষ করে শীতের দিনে কুমড়া বড়ি দিয়ে বানানো তরকারির ঝোলের কোনও জুড়ি নেই। এই চাল কুমড়ার বড়ি খায়নি বাংলাদেশে এমন মানুষ কমই আছে। এমনিকি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় গল্প-কবিতাতেও স্থান করে নিয়েছে এই কুমড়া-বড়ি। নিরামিষসহ নানা ধরনের তরকারি এই বড়ি দিয়ে রান্না করলে খাবারের স্বাদ বেড়ে যায়। সারা বছর কম-বেশি এই বড়ি তৈরি হলেও শীতকালই মূলত এর প্রধান মৌসুম। সরেজমিনে দেখা যায়, এবারের শীতেও রাজবাড়ীর বিভিন্ন গ্রামের গৃহিণীরা এই বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামের বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, ‘এ সুস্বাদু বড়ি তৈরির জন্য প্রথমে মাষকলাই পানিতে ভিজিয়ে নরম করে চট বা চটজাতীয় কাপড়ে ঘষে খোসা আলাদা করা হয়। এরপর খোসা ছাড়ানো ডাল (কালাই) পাটায় বেটে মিহি করে বেটে নেওয়া হয়। অপরদিকে পাকা চালকুমড়ার ভেতরের অংশ কেটে মিহি করে কাপড়ে মুড়িয়ে চিপে পানি বের করে ফেলা হয়। এরপর পানি নিংড়ানো চালকুমড়ার অংশ পাটায় পিশে মিহি করা মাষকলাইয়ের ডাল মিশিয়ে বড়ি তৈরি করা হয়। তারপর বাড়ির আঙ্গিনায় বা ঘরের চালে কাপড়ের ওপরে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। শুকানোর পর তৈরি হয়ে যায় কুমড়া-বড়ি।’

বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি গ্রামের চালকুমড়ার বড়ি প্রস্তুতকারক সবিতা রানী দাস বলেন, ‘এই বড়ি তৈরিতে পাকা চালকুমড়া আর মাষকলাইয়ের ডাল লাগে। মাষকলাইয়ের ডাল ছাড়া অন্য ডালেও এই বড়ি তৈরি করা যায়। তবে মাষকলাই দিয়ে তৈরি বড়ি বেশি সুস্বাদু হয়। রোদে মচমচে করে শুকালে এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়। বড়ি ভালোভাবে শুকাতে ৩-৪ দিন লাগে। এ বড়ি নিরামিষসহ বিভিন্ন ধরনের তরকারির মধ্যে দিয়ে রান্না করলে স্বাদ বেড়ে যায়, খেতে মজা হয়। যার ফলে এ বড়ি অনেকের কাছেই প্রিয়। যারা এ বড়ি তৈরি করে না, তারা বাজার থেকে কিনে নেয়।’

গৃহবধূ রাহেলা বেগম বলেন, ‘অনেকেই এ বড়ি তৈরি করে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে পাঠায়। বর্তমানে রাজবাড়ির বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারসহ মুদি দোকানগুলোতে এ চালকুমড়ার বড়ি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।’

রাজবাড়ী বড় বাজারের মুদি দোকানি কার্তিক দাস জানান, জেলার বিভিন্ন গ্রামের মহিলারা চাল কুমড়ার বড়ি তৈরি করে আমাদের কাছে বিক্রি করেন। বাজার থেকে অনেক ক্রেতা এই বড়ি কিনে নেন। ভালো মানের এক কেজি চাল কুমড়ার বড়ির দাম ৩শ’ টাকা।’

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ