অর্থবছরের প্রথম ৬ মাস হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ২৮ কোটি টাকা

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৪১, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৯, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

হিলি স্থলবন্দর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। কিন্তু এ সময়ে বন্দরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দরটিতে রাজস্ব আহরণের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ২৫ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগস্ট মাসে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ১৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ১০ কোটি টাকা। নভেম্বর মাসে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ডিসেম্বর মাসে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এই হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২২ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

সূত্র আরও জানায়, গত ৬ মাসের মধ্যে দুই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও বাকি ৪ মাসই বন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশ কিছু জটিলতার কারণে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। বিশেষ করে, স্থলবন্দর দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত (কমার্শিয়াল) পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এই জটিলতা আরও বেশি। স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তারা বন্দর দিয়ে কর্মাশিয়াল পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে যেসব পণ্যের আমদানির অনুমতি রয়েছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়েও একই পণ্যের আমদানির অনুমতি রয়েছে। বেনাপোলসহ দেশের অন্য বন্দর দিয়ে ফলসহ অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি অবাধে হলেও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কারণে এসব পণ্য আমদানি হচ্ছে না। এতে হিলি বন্দর রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অন্য বন্দরের মতো হিলি স্থলবন্দরকে পরিচালনা করে হলে এবং অন্য বন্দর থেকে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে যেসব বৈষম্য রয়েছে, সেগুলো দূর করা হলে পণ্য আমদানি বাড়বে এবং রাজস্ব আদায় বাড়বে।’

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহিনুর রেজা শাহীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করতো। এর মধ্যে ১শ’ ২০ থেকে ১শ’ ৩০ ট্রাকে আসতো শুধু পাথর, যা থেকে বন্দরের মোট রাজস্বের বেশিরভাগটাই আদায় হতো। ভারতে এখন ফারাক্কা বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এতে গত ৪ ডিসেম্বর থেকে বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি কমে গেছে। এ কারণে রাজস্ব আদায় কমেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক করে পাথর আমদানি হয়। অর্থাৎ এখন বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে বেশি, যার কোনও শুল্ক নেই। শুল্ক ৩ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ২৮ ভাগ করায় এখন আর বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয় না বললেই চলে।’

হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগের তুলনায় বর্তমানে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি খানিকটা কমেছে। তাই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হচ্ছে না।’

 

/এমএ/

লাইভ

টপ