বাবাকে মেরে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় ছেলে

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:২৭, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৪, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

ফেনীফেনীর ছাগলনাইয়ায় সেফটি ট্যাংক থেকে আবুল কালাম নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের দু'দিন পর হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহতের ছেলে আবুল হাসান ও তার বন্ধুরা মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের কাছে দেওয়া এক জবানবন্দিতে হাসান এ কথা স্বীকার করেছেন। তার দাবি বাবা আবুল কালাম মা ও ভাই-বোনদের প্রায়ই নির্যাতন ও মারধোর করতেন। এর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তিনি তার বাবাকে হত্যা করে ফেলেন।

ছাগলানাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএম মোর্শেদ বলেন, ‌‘হত্যাকাণ্ডের শিকার আবুল কালাম ছাগলনাইয়ার পশ্চিম মধুগ্রামের মিদ্দা বাড়ির মৃত সামছুল হকের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) আবুল কালামের লাশ বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী রেখা আক্তার ও ছেলে হাসানকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে হাসানের আরেক বন্ধুকে আটক করা হয়। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) রাতে হাসান পুলিশের কাছে বাবাকে মেরে সেপটিকে ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে হত্যা মামলায় হাসান ও তার বন্ধু ইমাম হোসেন রহিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়।’

নিহতের ছেলে আবুল হাসান পুলিশকে জানায়, তারা পাঁচ ভাই-বোন। তার বাবা কোনও কারণ ছাড়াই প্রায়ই তার ছোট ভাই-বোন এবং মাকে মারধর করতেন। তার ভাষার ব্যবহারও ভালো ছিল না। নিজ চোখের সামনে এসব দেখে তিনি বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ৪ জানুয়ারি শুক্রবার সকালেও তার বাবা ভাই-বোন ও মাকে মারধর করেন। ওইদিন বিকালে হাসান তার ভাই-বোনসহ মাকে নানার বাড়ি রেখে আসেন। পরে সন্ধ্যায় এলাকায় ফিরে বাবাকে শায়েস্তা করতে বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করেন।

হাসান বলেন, ‘ওইদিন আমাদের ঘরে বাবা ছাড়া কেউ ছিলেন না। আমরা চার বন্ধু পরামর্শ করে মুখে কাপড় বেঁধে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে যাই। তখনও আমাদের ঘরের দরজা খোলা ছিল। ভেতরে বাবা দাঁড়িয়ে কি যেন করছিলেন। আমার হাতে লাঠির মত (নলকূপের) একটি প্লাস্টিক পাইপ ছিল। আমি সেটি দিয়ে বাবার মাথার পেছনে আঘাত করি। আঘাত পেয়েই বাবা খাটের ওপর পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখি বাবার শরীর নিস্তেজ হয়ে গেছে। চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে দেখি কোনও নড়াচড়া নেই।’

হাসান দাবি করেন, ‘বাবাকে জানে মেরে ফেলার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। বাবা মারা গেছে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়ি। পরে লাশ লুকোতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিই।’

/টিটি/

লাইভ

টপ