শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২২ পদের ১৬টি শূন্য

Send
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫৯, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১১, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবলের অভাবে যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি। যার ২২ পদের ১৬টি শূন্য। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

সম্প্রতি হাসপাতালটি ৩১-৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না তারা।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১০টার আগে কোনও চিকিৎসককে হাসপাতালে দেখা মেলে না। বেলা ১টা বাজলে কোনও ডাক্তারকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানরা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। সিজার করা রোগীর ড্রেসিংয়ের অভাবে হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রনায় ছটফট করতে দেখা গেছে। দূর-দুরন্ত থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ডাক্তার না পেয়ে চলে যেতে দেখা গেছে। ডাক্তারের অভাবে এখানকার রোগীরা প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়। অনেক সময় রোগী নেওয়ার পথে মারা যান।

এছাড়া দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে কয়েক হাজার শ্রমিক  কাজ করেন। কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরা প্রায় আহত হয়ন।

উপজেলার আমতলা-গাতিপাড়া গ্রামের রওশনারা ও তাহেরা বেগম জানান, সকাল ৮টায় টিকিট কেটে ডাক্তারের অপেক্ষায় বসে আছেন। ১০টা বাজতে চললো এখনও কোনও ডাক্তার হাসপাতালে আসেনি।

তারা বলেন,হাসপাতালে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার সাহা বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবার কখনও  হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সনাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী জানালেন,প্যাথোলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান কবির পরীক্ষা নিরীক্ষা নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন। হাসপাতালের নিজস্ব প্যাথোলজিক্যাল বিভাগে যেসব রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় তার ৮০ভাগ রোগী কমিশন বাণিজ্যের জন্য চিকিৎসকরা বাইরের পছন্দের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠাচ্ছে।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) এনাম উদ্দিন শিপন অফিসের বিভিন্ন কাজে অধিকাংশ সময়ে হাসপাতালের বাইরে থাকেন।

দাঁতের চিকিৎসক রাবেয়া খাতুনের চিকিৎসা সেবার মান সন্তোষজনক নয় বলে উপস্থিতি রোগীরা মনে করেন। তার সহকারী আনিছুর রহমান রোগীদের সেবা না দিয়ে প্রায়ই হাসপাতালের বারান্দায় বা অন্যরুমে গল্প করে সময় কাটান।

এদিকে, হাসপাতালে সার্জিক্যাল বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ, গাইনি বিভাগ ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের কনসালটেন্ট পদে ডাক্তার নিয়োগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার সাহা  বলেন,হাসপাতালে ২২টি ডাক্তারের পদ থাকলেও এখানে মাত্র ৬ জন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া আছে। আমি সবাইকে বলে দিয়েছি আজ থেকে  কোনও রোগী আর বাইরে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য না পাঠাতে। সব উপজেলা হাসপাতালে ডাক্তারের সংকট রয়েছে, কোথাও দুই তিনজনের বেশি ডাক্তার নেই। সরকারিভাবে নতুন করে নিয়োগ দিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ