চার বছরেও হয়নি রাবিপ্রবি’র স্থায়ী ক্যাম্পাস

Send
জিয়াউল হক, রাঙামাটি
প্রকাশিত : ১৩:০৬, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০৭, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

প্রতিষ্ঠা হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও হয়নি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস। ২০১৫ সাল থেকে শহরের শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে চার ব্যাচের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এদিকে নিজেদের ক্যাম্পাসে যেতে না পারায় হতাশ শিক্ষার্থীরা।
গত ৪ নভেম্বর মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নান রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভূমি বুঝে পাওয়ার পর নির্ধারিত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ভূমিতে নামফলক উন্মোচন করা হলেও এখন আর কোনও কাজের অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ শিক্ষার্থী বিধান সরকার ও আবদুল গফফার বলেন, আমাদের মাত্র একটি ক্লাস রুম ও একটি ল্যাব। অন্য ব্যাচের ক্লাস বা পরীক্ষা চললে তাদের শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ভাড়া বাসায় কম রুম নিয়ে এমন কোনও বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিনা তাদের জানা নেই। তারা তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে চান। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পরিবেশ নেই।
নিমু ইসলাম ও সকন্যা সেন নামে দুই শিক্ষার্থী জানান, একটি ভাড়া ভবনে ছাত্রীদের হোস্টেলটি চললেও সেখানে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। তারা অভিযোগ করে জানান, ছাত্রদের হোস্টলে পুলিশ থাকলেও তাদের হোস্টলে নেই।
কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক রণজিত চাকমা বলেন, ‘আমাদের ক্লাস ও ল্যাবের সংকট রয়েছে। ল্যাব ক্লাস নেওয়ার উপযোগী নয়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (মুন্না) বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় এতদিন ধরে ভাড়া বাসায় চলতে পারে না। এর কারণে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, ‘রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এখনও নিজ ক্যাম্পাসে যেতে না পারাটা হাতাশার। আমি মনে করে, ভিসি স্থানীয়দের নিয়ে এই সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, সেই বিষয়ে আলাপ আলোচনা করলে অবশ্যই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ভাইস চ্যান্সেলর, ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা বলেন, ‘যতদূর প্রত্যাশা এবং যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা সেভাবে হয়নি। সবাই জানেন, স্থানীয় কিছু সমস্যা তো রয়েছেই। আমরাও চেষ্টা করছি অস্থায়ী শ্রেণি কার্যক্রম আমাদের জায়গায় আমরা শুরু করতে পারি সেই বিষয়ে কাজ চলছে। আশা করি, আগামী তিন মাসের মধ্যে এটি সম্ভব হবে।’

/এআর/

লাইভ

টপ