খুঁটি কেন সরছে না

Send
কাজী তানভীর মাহমুদ, রাজবাড়ী
প্রকাশিত : ১৯:৫০, মার্চ ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫২, মার্চ ০৩, ২০১৯

রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটিপাঁচ বছরেও রাস্তা থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরেনি। যার কারণে রাস্তাটি কাজেও আসছে না। চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কের বড়পুল মোড় থেকে সজ্জনকান্দা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনসার ক্যাম্প বাইপাস সড়ক এটি। রাজবাড়ী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ সড়কে বিদ্যুতের ছোট-বড় ৮টি খুঁটি রয়েছে।

খুঁটি সরাতে ২০১৪ সালে মামলা করেন স্থানীয় আজমীর হোসেন।

মামলার বাদী আজমীর হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটিগুলোতে ৩৩ কিলোভোল্টের লাইন রয়েছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাইন হওয়ায় এর খুঁটি কেউ নিজের জমিতে বসাতে দিতে চান না। কারণ এই বিদ্যুতের লাইনের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি এর আগে রাজবাড়ীর এমপি ও পৌর মেয়রকেও বলেছি রাস্তার দুপাশে খুঁটি দিয়ে মাঝখান দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নিতে। অথবা মাটির নিচ দিয়ে নিতে। কিন্তু, আমার পরামর্শ বা অনুরোধ কেউ রাখেনি, তাই বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। দুই মাস আগে খুঁটি সরানোর বিষয়ে আদালত স্থিতাবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন।’

স্থানীয় তরুণ নাজিম আহম্মেদ বলেন, ‘খুঁটিগুলো রাস্তার মাঝখানে থাকায় বড় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।’

রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটিমোটরসাইকেল চালক সোহাগ কাজী বলেন, ‘রাস্তায় রাতের বেলায় চলতে গিয়ে অনেক চালকই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।’

রিকশাচালক রহিম মিয়া বলেন, ‘রাস্তার মাঝে খুঁটিগুলো থাকায় খুব সমস্যা হয়।’

পৌর মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, ‘পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। রাস্তাটি সচল করার জন্য খুঁটি সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

ওজোপাডিকো রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, ‘খুঁটি সরানোর বিষয়ে অনেকবার বৈঠক হয়েছে। বর্তমান পৌর মেয়রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুঁটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মামলাও করেছেন। রাস্তার দুই পাশে যাদের জায়গা, তাদের জায়গায় তারা খুঁটি বসাতে দিচ্ছেন না। আগামী সোমবার (৪ মার্চ) পৌরসভা মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করা হবে।’

রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটিসরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের আটটি খুঁটি রয়েছে। রাজবাড়ী পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের বড়পুল থেকে আনছার ক্যাম্প মোড় পর্যন্ত ২৭০ মিটার সড়কের কাজ তিন ধাপে সম্পন্ন করা হয়। ব্যয় হয় ২ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ১৩২ টাকা। রাস্তা তৈরির প্রথম ধাপে ২৭০ মিটার লম্বা খাল ভরাট করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে পয়ঃনিষ্কাশন নালা (ড্রেন) নির্মাণের কাজ করা হয়। ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সুমিত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রাস্তা নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা শেষ হয়। কিন্তু, রাস্তা থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরানো সম্ভব না হওয়ায় এখন পর্যন্ত রাস্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি।

 

/এনআই/

লাইভ

টপ