নওগাঁর তুলশীগঙ্গা নদী যেন ময়লার ভাগাড়

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৩৩, মার্চ ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৭, মার্চ ০৪, ২০১৯

 

তুলশীগঙ্গা নদীর বর্তমান অবস্থানওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তুলশীগঙ্গা নদীটি এখন মৃতপ্রায়। এক সময়ের দাপটে বয়ে চলা এই নদীর প্রবাহ এখন থেমে গেছে। বছরের বছর পর দখল ও দূষণের কারণে নদীটি পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নওগাঁ পৌরসভার রজাকপুর এলাকায় তুলশীগঙ্গা সেতু দুই পাশে নদী জুড়ে যেন ময়লার ভাগাড়। সেতুর নিচে বর্জ্য ফেলা রাখা হয়েছে। নদীর বুক জুড়ে শুধুই কচুরিপানা। অনেক স্থানে নদীর পানি শুকিয়ে গেছে। সেতুর উত্তর দিকে তুলশীগঙ্গার উজানে পশ্চিমপাশে নদীর পাড়ে অবস্থিত তিনটি চালকলের উৎপাদিত ছাই ফেলা হচ্ছে নদীতে। পূর্বে পাশে পাড় ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে দু’টি চালকল, দু’টি ইটভাটা, চাল-গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য ছাঁটাইয়ের একটি কারখানা। সেগুলো থেকেও প্রতিনিয়ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। তাছাড়াও পৌরসভার ভবানীপুর, কাঁঠালতলি ও রজাকপুর এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও কারখানার ময়ল পানি এসে পড়ছে নদীতে।

তুলশীগঙ্গা নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরের শালখুড়িয়া ইউনিয়নের বিলাঞ্চল এলাকা থেকে উৎপত্তি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া নদী পরিচিতিতে নদীটির দৈর্ঘ্য ১০০ কিলোমটিার বা ৬২ মাইল। নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় ছোট যমুনা নদীর সঙ্গে এটি মিলিত হয়েছে। প্রায় ২০ কিলোমিটার জুড়ে নওগাঁ সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। ১৯৮৭ সালে সদর উপজেলার ছিটকিতলা এলাকায় স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয় এবং ওই এলাকায় তুলশীগঙ্গা থেকে একটি খাল খনন করে তুলশীগঙ্গার প্রবাহ ছোট যমুনার সঙ্গে মিলিত করা হয়। মূলত সেই সময় থেকেই তুলশীগঙ্গা তার নাব্যতা হারিয়ে ফেলে।

প্রায় ৩০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে দুই-তিন মাস প্রবাহ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে এটি প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। নদীর কোথাও কোথাও পানি শুকিয়ে মাঠে পরিণত হয়। ওই সব স্থান দিয়ে পায়ে হেঁটে নদী পার হওয়া যায়। নদের পাড় জুড়ে চলছে দখলদারিত্ব।

তুলশীগঙ্গা তীরবর্তী নওগাঁ ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘এই নদী এক সময় সারা বছর নৌকা চলতো। কম খরচে মালামাল পরিবহন করা যেত। কিন্তু এখন বর্ষার সময় দুই-তিন মাস ছাড়া পানিই থাকে না।’

সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘আগে তুলশীগঙ্গায় সারা বছর পানি থাকতো। আমাদের বাবা, চাচারা নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরতো। এখন মাছও নাই পানিও নাই।’

নওগাঁর স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি ডি এম আব্দুল বারী বলেন, ‘তুলশীগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে আমরা একাধিকবার মানববন্ধন করেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। আমরা তুলশীগঙ্গাকে রক্ষার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

এ ব্যাপারে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, ‘তুলশীগঙ্গার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে সদর উপজেলার চককতুব রেগুলেটর থেকে নওগাঁ শহরের তুলশীগঙ্গা সেতু পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প পাস হয়েছে এবং ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদী তার স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পাবে।’

/এসএসএ/

লাইভ

টপ