নেপালে বিমান দুর্ঘটনা:এখনও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি ইয়াকুব

তানজিল হাসান, মুন্সীগঞ্জ
১২ মার্চ ২০১৯, ১৭:২৯আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ১৯:৩৪

ইয়াকুব আলী রিপন (ছবি– প্রতিনিধি)

নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত ইয়াকুব আলী রিপন এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। বিছানা থেকে ওঠা-বসার জন্য আজও অন্য একজনের কাঁধে ভর দিতে হয় তাকে। ইয়াকুবের স্বজনেরা জানান, এখনও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। পরিবারের সদস্যেরা ছাড়া কারও সঙ্গে তিনি কথা বলেন না, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও না। ব্যবসায়ী হলেও বিমান দুর্ঘটনার পর আর ব্যবসার হাল ধরা হয়নি তার।

গত বছরের ১২ মার্চ ব্যবসার কাজে নেপালে যাওয়ার জন্য ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানে চড়েছিলেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ির কামারখাড়া ইউনিয়নের বেশনাল গ্রামের ইয়াকুব। সেই বিমানটিই কাঠমান্ডুতে পৌঁছে বিধ্বস্ত হয়। তবে এই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান ইয়াকুব।

বর্তমানে  ইয়াকুব আলী রিপন ঢাকায় তার মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকার বাসায় আছেন। সঙ্গে থাকেন স্ত্রী আঁখি বেপারি, যার সঙ্গে তার প্রায় ৯ বছর আগে বিয়ে হয়। এ দম্পতির ইয়ানুফ আলি নামের ৮ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

রিপনের ব্যাপারে খবর নেওয়ার জন্য তার স্ত্রী আঁখি বেপারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ইয়াকুবের চিকিৎসার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার যথেষ্ট সাহায্য পেয়েছি। তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। চলাফেলার জন্য তার সঙ্গে এখনও একজন প্রয়োজন হয়। ওঠা-বসাসহ কোনও কিছু করার জন্য অন্য একজনের দরকার হয়। এখন আর ব্যবসা করতে পারেন না। তার ভাইয়েরা তার ব্যবসা দেখেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে আরও সময় লাগবে। তাকে নিয়ে মাঝে মাঝে ঘুরতে বের হই আমরা; যাতে একেবারে গৃহবন্দি হয়ে না পড়েন।’

আঁখি বেপারি আরও বলেন, ‘নেপালের পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ইয়াকুব। এরপর ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর শরীরের অবস্থা ভালো না হওয়ায় আবার দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স থেকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা পেয়েছি। এরপর ঢাকার মহাখালীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এসব নিয়ে এখন তার (ইয়াকুবের) কথা বলার অবস্থা নেই, ইচ্ছেও নেই।’

ইয়াকুব আলী রিপন পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে বড়। যোগাযোগ করা হলে ইয়াকুব আলী রিপনের ভাই শিপু বেপারি বলেন, ‘সাহায্য ছাড়া এখনও হাঁটতে পারে না ইয়াকুব। দিল্লির একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। এখনও ব্যবসার কাজ শুরু করতে পারেনি।’

ইয়াকুব আলী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কাজে বিভিন্ন সময় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত ছিল তার।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মামলা নিতে ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার
মামলা নিতে ১০ হাজার টাকা দাবি, লাশ নিয়ে থানা ঘেরাওয়ের পর এসআই প্রত্যাহার
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের, তেহরান পুড়িয়ে দেওয়া হুমকি
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের, তেহরান পুড়িয়ে দেওয়া হুমকি
রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি
রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি
যেকোনও মূল্যে মাজারের সেই কুমির ফেরত চান খাদেম
যেকোনও মূল্যে মাজারের সেই কুমির ফেরত চান খাদেম
সর্বাধিক পঠিত
খাবারই ছিল পেশা এখন সেই খাবারেই লড়াই
খাবারই ছিল পেশা এখন সেই খাবারেই লড়াই
ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে 
ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে 
ভুটানের ভূমিকম্পে কাঁপলো ঢাকাসহ সারা দেশ
ভুটানের ভূমিকম্পে কাঁপলো ঢাকাসহ সারা দেশ
আগেই তাকে ত্যাজ্য করেছি, ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো না
আগেই তাকে ত্যাজ্য করেছি, ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো না
স্পা সেন্টারে ‘ব্ল্যাকমেইল’ ফাঁদ
স্পা সেন্টারে ‘ব্ল্যাকমেইল’ ফাঁদ