রাজধানীর নদীর পাড়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে: নৌ-প্রতিমন্ত্রী

Send
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৫৩, মার্চ ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০১, মার্চ ১৪, ২০১৯

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (ছবি: সংগৃহীত)রাজধানীবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে নদীর পাড়গুলোতে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আমরা মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করতে যাচ্ছি। নদীর পাড়ে রাস্তা নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে। বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীগুলোতে আমরা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’

বুধবার (১৩ মার্চ) বিকালে বুড়িগঙ্গা নদীর রাজধানী প্রান্তে বাদামতলী, শ্যামবাজার এবং কেরানীগঞ্জের তৈলঘাট ও গুদারাঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় খেয়াঘাটগুলো দিয়ে রাজধানীতে যাতায়াতে কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষদের স্বার্থ রয়েছে। এসব বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে আমরা পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় নতুন ঘাট নির্মাণ না করা পর্যন্ত এই ঘাটগুলো দিয়ে আগের মতোই খেয়া পারাপার চলবে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বিদ্যুৎ প্রতিমিন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মো. আব্দুস সামাদ, বিআইডবিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মাহবুবুল ইসলাম, বিআইডবিউটি এর পরিচালক শফিকুল হক, ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফউদ্দিন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ শেখ, সাধরণ সম্পাদক শেখ স্বাধীন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘নদীর তীর ঘিরে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নৌমন্ত্রণালয় বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এখানে নদীতে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে ডুবে লোকজন মারা যাচ্ছে। এ সমস্যাটির বড় সমাধান দরকার। হঠাৎ করে ঘাটটি বন্ধ করে দিলে, নদীপথে মানুষের পারাপার ও ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। এখানে কয়েক হাজার গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। এখানকার তৈরি মালামাল বাজারে ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে সমস্যা হয়ে যাবে। উনারা (নৌ মন্ত্রণালয়) আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তারা সুন্দরভাবে পরিকল্পনা নিয়ে আধুনিক একটি ঘাট নির্মাণ করে দেবেন। যাতে দু’পক্ষের লাভ হয় এবং লঞ্চগুলো নিরাপদে নোঙর করতে পারে।’

উল্লেখ্য, সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে গত তিন মাসে লঞ্চের ধাক্কায় নৌকা ডুবিতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব কারণে সীমসন ঘাটসহ কয়েকটি ঘাটে খেয়াপারাপার গত সোমবার রাত থেকে নিষিদ্ধ করে বিআইডব্লিউটিএ। এ ঘাটগুলো বন্ধের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই শতশত নৌকার মাঝি, হাজার হাজার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। আগানগর ও কালিগঞ্জ এলাকার শতশত দোকান পাট বন্ধ করে তারা ধর্মঘট পালন করে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের এই সমস্যার সমাধান করেন।

/আইএ/

লাইভ

টপ