তৃয়াশার স্বপ্নের মানুষ প্রধানমন্ত্রী

Send
এনায়েত করিম বিজয়, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত : ২০:৩০, মার্চ ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭, মার্চ ১৫, ২০১৯

স্বপ্নের মানুষের ছবি হাতে তৃয়াশা

তৃয়াশা বড় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর মতো দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। তাই ছোটবেলা থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আদর্শ ও স্বপ্নের মানুষ। এই ভালোবাসা থেকেই তৃয়াশা প্রধানমন্ত্রীকে নিজের হাতে আঁকা একটা ছবি উপহার দেওয়ার স্বপ্ন দেখতো। আড়াই মাস চেষ্টার পর তৃয়াশা নিজের মনের মতো করে প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি আঁকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে তা কীভাবে দেবে সে পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। এরইমধ্যে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১৮-তে অংশ নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তৃয়াশা। পুরস্কারটি সে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তার স্বপ্ন পূরণের একটা পথ খুঁজে পায়।

নিজের আঁকা ছবি নিয়ে তৃয়াশা

স্বপ্ন পূরণের আশায় বুধবার (১৩ মার্চ) পুরস্কার নেওয়ার জন্য তার আঁকা প্রধানমন্ত্রীর ছবিটি নিয়ে বাবা-মা’র সঙ্গে তৃয়াশা ঢাকায় যায়। কিন্তু ছবিটি নিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় তার মন খারাপ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করেও অনুমতি না পাওয়ায় ছবিটা বাবার কাছে রেখে একাই ভেতরে ঢোকে তৃয়াশা। অনুষ্ঠানে তার নাম ডাকা হলে তৃয়াশা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া সময় ছবির কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানায়। একপর্যায়ে ছবিটি ভেতরে আনতে না পারার কথা জানিয়ে তৃয়াশা কান্নায় ভেঙে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ছবিটি নিয়ে আসার জন্য। ছবি নিয়ে বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল তার বাবা শংকর চন্দ্র সরকার। ছবিসহ তৃয়াশার বাবাকে ভেতরে নিয়ে আসা হয়। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে তৃয়াশা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছবিটি তুলে দেয়। স্বপ্ন পূরণের খুশি নিয়ে সে বাসায় ফিরে আসে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে তৃয়াশাদের বাসা টাঙ্গাইলের আশেকপুরে গেলে এসব তথ্য জানান তৃয়াশার মা তাপসী রানী সরকার।

মা ও ছোট ভাইয়ের সাথে তৃয়াশা

তৃয়াশা সরকার টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তৃয়াশার বাবা শংকর চন্দ্র সরকার ব্যবসায়ী এবং মা তাপসী রানী সরকার চাকরিজীবী। চাকরি সূত্রে তারা টাঙ্গাইলে বসবাস করছেন। তারা কুমিল্লা সদরের বাসিন্দা।

তৃয়াশার মা তাপসী রানী সরকার আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তৃয়াশার স্বপ্নের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর ছবি আঁকবে এবং তাকে উপহার দেবে এটা তার স্বপ্ন ছিল। আজ তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছবিটি দিতে পেরে তৃয়াশা খুবই আনন্দিত।

নিজের আঁকা ছবি ও পুরস্কার নিয়ে তৃয়াশা

তৃয়াশা সরকার জানায়, আমার স্বপ্নের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিটি আঁকতে প্রায় আড়াই মাস সময় লেগেছে। এটা আমার সর্বশেষ আঁকা ছবি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ আঁকলাম, তখন দেখা গেলো চোখ হলো না। চোখ হলো তো নাক হলো না। এভাবেই প্রায় ৩০টি ছবি আঁকার পর ছবিটি পরিপূর্ণ হয়েছে। এরপর ছবিটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রীকে ছবিটি দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

তৃয়াশা আরও জানায়, ছোটবেলা থেকেই আমি ছবি আঁকি। ছবি আঁকা ছাড়াও আমি নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয় করি। আমি এ পর্যন্ত জাতীয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ পুরস্কার পেয়েছি। মা আমাকে খুব সাহায্য করেন এসব শিখতে। মায়ের কারণেই আমি প্রধানমন্ত্রীকে ছবিটি দিতে পেরেছি এবং এতো পুরস্কার পেয়েছি। তৃয়াশা বড় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর মতো দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়।  

বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে তৃয়াশা

একই দিন সকালে টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় সেখানকার প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০১৮তে অংশগ্রহণ করে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তৃয়াশা আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তৃয়াশা সরকার মেধাবী শিক্ষার্থী। ও খুবই ভালো এবং সবসময় হাসি-খুশি থাকে।  তৃয়াশা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কোনও না কোনও স্থান পেয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করে।

/জেবি/এমওএফ/

লাইভ

টপ