বগুড়া-১ আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নানের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বিরোধিতা এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়ে এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, তিনি বা তার স্ত্রী কোনও বিরোধিতা বা কাউকে হুমকি দেননি। তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই মিথ্যাচার করা হচ্ছে। নিষেধ থাকায় তিনি ঢাকা থেকে এবং তার স্ত্রী এলাকায় থেকে সরকার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেন। এরপর থেকে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নানের প্রত্যক্ষ বিরোধিতা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছি আমি। সংসদ সদস্য কাউকে সুযোগ না দিয়ে চেয়ারম্যান পদে তার স্ত্রী সাহাদারা মান্নানের একক নাম কেন্দ্রে পাঠান। কিন্তু আওয়ামী লীগের নির্বাচনি বোর্ড দলীয় কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে আমাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেন। এতে এমপি ও তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুস ছালামকে (দোয়াত কলম) তাদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এছাড়া মাইকে ঘোষণা দেন, আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন শেখ হাসিনা, কিন্তু দল দেয়নি। এরপর এমপি ঢাকায় চলে যান এবং তার স্ত্রী সাহাদারা এলাকায় থেকে তাদের প্রার্থী আবদুস ছালামের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে থাকেন। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করে প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’
অধ্যক্ষ মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার অভিযোগ করেন, ‘এমপি ও তার স্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আমার নৌকা মার্কার কর্মীদের নানাভাবে প্রশাসনিক হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া দলের সব স্তরের নেতাকর্মীকে এমপি ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে নৌকার বিপক্ষে ও তাদের প্রার্থীর (দোয়াত কলম) পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করছেন। কেউ তাদের কথা না শুনলে তাকে প্রশাসনিক ভয় ও দল থেকে বহিস্কারের হুমকি দিচ্ছেন। এতে দলের কর্মীরা ভীত ও বিব্রতবোধ করছেন। ফলে তারা নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার সাহস ও মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন। তারা (এমপি ও স্ত্রী) কালো টাকা ছিটিয়ে কিছু নেতাকর্মীকে তাদের আয়ত্বে এনেছেন এবং নির্বাচনি পরিবেশ কলুষিত করার চেষ্টা করছেন।’
আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী আরও জানান, ‘শুক্রবার সকালে গুজব ছড়ানো হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ ফারাজী ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমন গ্রেফতার হয়েছেন। আমি এ ভেবে আতঙ্কিত যে, ওই প্রভাবশালী মহল গুজব ছড়িয়ে সত্যিই কাউকে গুম করে আমার ও কর্মীদের ওপর দায় চাপিয়ে বিপদে ফেলবেন। আমি (মুনজিল) বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, সাহাদারা মান্নানের নেতৃত্বে আগামী ১৮ মার্চ নির্বাচনে দোয়াত কলমের পক্ষে ৩০/৩২টি কেন্দ্রের ভোট বলপূর্বক কেটে নেবেন। সে উদ্দেশ্যে তাদের অনুগতরা সাধারণ ভোটারদের নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, কেউ কেন্দ্রে গেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।’ তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার বিজয় সুনিশ্চিত। তাই তিনি সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহী সুমন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ ফারাজি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলী আজগর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বা আমার স্ত্রী দলীয় সিদ্ধান্তের কোনও বিরোধিতা করিনি বা কাউকে হুমকি দেইনি। আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এলাকায় থাকার নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমি ঢাকায় আছি। তবে আমার স্ত্রী এলাকায় আছেন। যার যার অবস্থান থেকে আমরা দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছি।’








