নড়াইলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

Send
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:১৩, মার্চ ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৮, মার্চ ১৭, ২০১৯

লাশ

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের চামরুল গ্রামে জলি বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ তার স্বামীর বাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে আনে। রবিবার দুপুরে নড়াইল সদর হাপাসাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই গৃহবধূর শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর পলাতক রয়েছে। তার স্বামী পলাশ বিশ্বাস মালয়েশিয়ায় থাকেন।

নড়াইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সদর উপজেলার চামরুল গ্রামের বক্কার বিশ্বাসের ছেলে পলাশ বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার চন্ডিবপুর ইউনিয়নের রাজপুর গ্রামের কালাম বিশ্বাসের মেয়ে জলি বেগমের চার বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের লাবিব নামে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। 

নিহত জলির মা সেলিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন,‘আমার মেয়ে জলির বর পলাশ মালয়েশিয়ায় চাকরি করে। জলি শ্বশুর বাড়িতেই থাকতো। তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর মাঝে মধ্যেই জলিকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক আনার জন্য চাপ দিত। আমার স্বামী সামান্য চাকরি করে তাই আমাদের পক্ষেও টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে তারা মেয়েকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েকদিন আগে জলি আমাদের বাড়িতে চলে আসে। পরে আর নির্যাতন করবে না বলে মৌখিক অঙ্গীকার করে শুক্রবার বিকেলে জলিকে তার দেবর জুয়েল এসে নিয়ে যায়। শনিবার বিকাল চারটার দিকে জলি আমার সঙ্গে মোবাইলে কথাও বলেছে। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে পাশের বাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়, জলি খুব অসুস্থ। রাতে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে। জলির দুই বছরের ছেলেকে নিয়ে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চামরুল গ্রামের প্রতিবেশী এক নারী জানান, জলি আত্মহত্যা করেছে। তাকে কেউ হত্যা করেনি।

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের শ্বশুর বক্কার বিশ্বাস, শাশুড়ি জাহেদা বেগম ও দেবর জুয়েল বিশ্বাস পলাতক রয়েছে।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ