এবার হেলপারের ধাক্কায় চাকার নিচে প্রাণ গেলো সিকৃবি শিক্ষার্থীর

Send
মৌলভীবাজার ও সিকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৪০, মার্চ ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৪, মার্চ ২৪, ২০১৯

 

সিকৃবি শিক্ষার্থী ওয়াসিমএবার হেলপারের ধাক্কায় বাস থেকে পড়ে চাকার নিচে প্রাণ হারালেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ঘোরী মো. ওয়াসিম। শনিবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৫ টায় মৌলভীবাজারের শেরপুর বিশ্বরোডে এ ঘটনা ঘটে।তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্র গ্রামের ঘোরী মো. আবু জাহেদ মাহবুব ও ডা. মীনা পারভিনের ছেলে। 
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নয়ন শুভ জানান, ওয়াসিমসহ ১১ জন শিক্ষার্থী হবিগঞ্জের দেবপাড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তারা ময়মনসিংহ-সিলেট রোডের উদার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। ভাড়া নিয়ে বাসের হেলপারের সঙ্গে তাদের বিবাদ হয়। একপর্যায়ে বাসের হেলপার ওয়াসিমসহ আরেকজনকে ধাক্কা দেন। এতে ওয়াসিম বাস থেকে পড়ে যান এবং চাকা তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রাকিব হোসেন নামে আরেকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে লাফ দিয়ে নামেন।

ওয়াসিমকে দ্রুত প্রাইভেটকারে করে সিলেট এম এ জি ওসমানী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়। রাকিব হোসেনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা বাসটি আটক করেন। ততক্ষণে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ বাসটি জব্দ করে।

বাসের হেলপার ও চালকের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ

এদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিকৃবির সহস্রাধিক শিক্ষার্থী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা টায়ার পুড়িয়ে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেন। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ অন্যান্য সড়কে যানবাহন চলাচল। রাস্তায় আটকে থাকে কয়েকশ’ যানবাহন। একপর্যায়ে পরিবহন শ্রমিকরাও অবস্থান নেয় কদমতলী এলাকায়। এ অবস্থায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। তারা বাসের হেলপার ও চালকের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন।

প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত পদক্ষেপ না নেবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা। শিক্ষার্থীরা সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে উদার পরিবহনের কাউন্টারে হামলা করেছে। এছাড়া সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালেও ভিড় করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে গেছেন সিকৃবির উপাচার্য প্রফেসর মতিয়ার রহমান হাওলাদার। উপাচার্য বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মানুষের জীবনের মূল্য কমে গেছে। সহনশীলতা কমে গেছে। ওয়াসিমের মৃত্যুর এই ঘটনাকে সড়ক দুর্ঘটনা বলা যায় না, এটা মার্ডার। 

সেকৃবির প্রক্টর প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু বিক্ষুব্ধ সকল শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। তবে কোনও ধরনের হামলা বা বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে নয়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে। তবে আগামীকাল রবিবার (২৪ মার্চ) ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন,পরবর্তী কর্মসূচি রাতেই ঘোষণা দেওয়া হবে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন শিক্ষার্থীরা। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে এনেছেন। 

ইটের আঘাতে আহত শিক্ষার্থী 

এর আগে দক্ষিণ সুরমায় একদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধ, অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকরা মুখোমুখি অবস্থানে ৭ থেকে ৮টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এ সময় ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অর্ঘ্য চন্দ জানান, আঘাতে সাইদুরের মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। সংঘর্ষের সময় আক্রমণকারী বাস শ্রমিক পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

চালক জুয়েল মিঞাবাস চালক আটক

মৌলভীবাজার শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. শরীফ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমা এলাকা থেকে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযুক্ত চালক জুয়েলকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা থানায় সোপর্দ করেন। সেখান থেকে মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি সোহেল আহমদ তাকে মৌলভীবাজারে নিয়ে যান। আটক জুয়েল আহমদ (৪০) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ভাড়াউড়া গ্রামের মৃত আজিদ মিয়ার ছেলে।’

অন্যদিকে বাস চালকের হেলপারের বাড়ি সুনামগঞ্জ। সে পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

/ওআর/

লাইভ

টপ