উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: টেকনাফে সুষ্ঠু ভোটের অপেক্ষা, আছে শঙ্কাও

Send
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:৩৮, মার্চ ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৪, মার্চ ২৪, ২০১৯

টেকনাফ

আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছিল গত শুক্রবার দিবাগত রাতে। এখন ভোটের অপেক্ষা। ভোটাররা অধীর আগ্রহে সেই ক্ষণটিরই প্রহর গুণছেন। রাত পোহালেই সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তৃতীয় ধাপের এই উপজেলা পরিষদ ভোটগ্রহণের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সবকটি কেন্দ্রে ভোট সামগ্রী পৌঁছে গেছে।

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রাথী যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম (মোটর সাইকেল) প্রার্থীর নির্বাচনী কেন্দ্র ভাংচুর ও পোষ্টার-ব্যানার আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ আলী’র লোকজনের উপর। এসময় মোটর সাইকেল সমর্থনের লোকজনকে মারধারও করা হয়। এ ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রাথী যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম।
বিষয়টি নিশ্চিত  করে টেকনাফ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান জানান, ‘স্বতন্ত্র প্রাথীর দেওয়া অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ‘অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম যথাসময়েই পৌঁছে গেছে।

তিনি আরও জানান, এখন শুধু সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ সম্পন্নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কোন পক্ষই নির্বাচনে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
২৪ মার্চ রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টেকনাফের একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের ৫৫টি ভোট কেন্দ্রের মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৮ জন ভোটারের একযোগে ভোট নেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে ভোট গণনা। তার পর রাতেই জানা যাবে ভোটের ফলাফল। কে জিতেছেন, কে হেরেছেন, ভোটের ব্যবধান কত, কে কোথায় কত ভোট পেয়েছেন-রাতভর চলবে এ রকম হিসাব-নিকাশ। আর ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অবসান ঘটবে সব প্রতীক্ষার।
উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে দেখা গেছে, ভোট গ্রহণের জন্য ফরম, স্টেশনারি, ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স অমচোনীয় কালিসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নির্বাচনী সামগ্রী উত্তোলন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় স্ব স্ব কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনীয় দায়িত্ব থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২৪ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এ নির্বাচনে ৭ ম্যাজিষ্ট্রেট, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশের ৭টি স্টাইকিং ও মোবাইল টিম এবং র‌্যাবের টহল নিয়োজিত থাকবে। মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন নগরী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৬৫৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৭৩ হাজার ১৫১ জন। এ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৫৫ টি। তার মধ্যে অর্ধেকই ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিন জন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুরুষ ৮ জন এবং মহিলা পদে ৩ জন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত মোহাম্মদ আলী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহম্মদ (আনারস), অপর স্বতন্ত্র প্রাথী যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম (মোটর সাইকেল)।

স্বতন্ত্র প্রাথী যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম দাবি করেন, ‘ শান্তিপূর্ণ নিবার্চনকে বানচাল করতে নৌকার প্রর্থীর লোকজন অস্ত্রসশস্ত্র নিয়ে গ্রামে গ্রামে আমার লোকজনকে হুমকি-ধমকি দিয়ে মারধর ও পোষ্টার আগুনে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশা তার।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘নির্বাচনকালে কোন বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবেনা। ইসির নির্দেশ মতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করে যাবে।’ 

/এমএইচ/

লাইভ

টপ