কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করলে দেশ ধ্বংস হয়ে যেত: এলজিআরডিমন্ত্রী

Send
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৫৬, এপ্রিল ০৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৯, এপ্রিল ০৩, ২০১৯

শেরপুরে এলজিআরডিস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যদি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করা হতো তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যেত। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক সমালোচনা, গালমন্দ সইতে হয়েছে। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে ডিটারমাইন্ড ছিলেন বলে আজ দেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছেন। দেশ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে।’ বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর পৌরসভার সার্ধশত বছর উদযাপন উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ দারোগ আলী পৌরপার্কে পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া লিটনের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিক, শেরপুর-৩ আসনের এমপি প্রকৌশলী ফজলুল হক চাঁন এমপি, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এটিএম জিয়াউল হক, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি প্রমুখ।

মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১৬০০ মেগাওয়াট যা তারা ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করে। আর এখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২২ হাজার মেগাওয়াট। আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ছিল ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কোনও বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না।’    

তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করছি যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। আমরা প্রতিটি জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও আইটি সেন্টার স্থাপনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশের সব পৌরসভাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শুধু প্রকল্প নিলেই চলবে না এর বাস্তবায়ন করতে হলে সব পৌর নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।’

তাজুল ইসলাম জানান, ‘গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে ন্যায্য মূল্য পায়। দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ১০০টি ইকনোমিক জোন করা হচ্ছে। এজন্য যুবকদের আইটি শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হলে তাদের আর্থিক বুনিয়াদ শক্তিশালী করতে হবে।  আর এজন্য রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। অনুদানের ওপর নির্ভর করে কোনও প্রতিষ্ঠান স্বাবলম্বী হতে পারবে না।’ এসময় তিনি ভারতের গোয়া প্রদেশের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘সেখানে ৭ হাজার মানুষের একটি ইউনিয়নে রাজস্ব আদায় হয়  বছরে ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা।  তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পায় মাত্র ১৮ লাখ টাকা। ফলে এই রাজস্ব দিয়ে তারা সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে পারে।  কাজেই তারা পারলে আমরা কেন পারবো না।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে সবার দাবি তাদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের কাঁধে  যদি সব বোঝা চাপিয়ে দেন তাহলে রাষ্ট্র স্থায়ীভাবে দরিদ্র হয়ে পড়বে। স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তারা স্পট কালেকশন করে তাদের সমস্যার সমাধান করবে। তবে অনেক জনপ্রতিনিধি মনে করেন ট্যাক্স কালেকশন করলে জনগণের কাছে সে অপ্রিয় হয়ে পড়বে। এ ধারণা ঠিক নয়। জনগণকে বোঝাতে পারলে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে পারলে ট্যাক্স কালেকশন করা কোনও ব্যাপার না। তাদের বোঝাতে হবে ট্যাক্স দিলে আপনার জীবন উন্নত হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে বোঝাতে হবে এসব দেশের নাগরিকরা নিয়মিত ট্যাক্স দেন বলেই তারা এত উন্নত।’

এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭৪ সালে মুজিব ইন্দিরা চুক্তি বাস্তবায়ন করে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যা সমাধান করে ১১ হাজার একর জমি আমরা পেয়েছি। মিয়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা আমরা বেশি পেয়েছি। কাজেই কোনও দৈব-দুর্ঘটনা না ঘটলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো।’

 

/এফএস/

লাইভ

টপ