মসিক নির্বাচন: আ.লীগ মাঠে, কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে বিএনপি

Send
আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত : ১৫:৩৯, এপ্রিল ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫২, এপ্রিল ০৪, ২০১৯

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন

আগামী ৫ মে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা মাঠে নেমেছেন। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন তারা।

তৃণমূলের সমর্থনে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে ছয়জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। গত সোমবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় একটি হোটেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় মেয়র পদে ছয়জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা শেষে প্রস্তাবিত ছয় মেয়র প্রার্থীর নাম কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে পাঠানো হয়।

পোস্টারে ছেয়ে গেছে ময়মনসিংহ শহর

প্রস্তাবিত ছয়জন হচ্ছেন- ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক মেয়র, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, ময়মনসিংহ শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাদেক খান মিল্কী টজু, ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের সাবেক ভিপি ও ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য একেএম সাজ্জাদ হোসেন শাহীন ও ময়মনসিংহ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম অ্যাডভোকেট মাহমুদ আল নূর তারেকের ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ফারামার্জ আল নূর রাজীব।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম জানান, ‘পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে ময়মনসিংহে। মহানগরীর উন্নয়নে এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর যোগ্য নগরপিতা বেছে নিতে সব দলের নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত।’ তিনি আরও জানান, মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ছয়জনের একটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা দলের ত্যাগী এবং যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেবেন, এটাই তাদের প্রত্যাশা।

পোস্টারে ছেয়ে গেছে ময়মনসিংহ শহর

আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টিতেও মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন দলের একাধিক প্রার্থী। এদের মধ্যে মাঠে দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক আকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক আবু মুসা সরকার এবং জাতীয় যুব সংহতির সাবেক সভাপতি ও জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য স্বপন মন্ডলের।

মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ময়মনসিংহকে বিভাগ ও পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করেছেন। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং দলের নেতাকর্মীরা খুবই আনন্দিত। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা যাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই সবাই কাজ করবে।’

এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়নি। তবে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ হান্নান খান দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট এমএ হান্নান খান জানান, ‘দল যদি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই আমি মেয়র পদে নির্বাচন করব। মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে গত এক বছর ধরে আমি প্রায় এক লাখ লিফলেট ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরণ করেছি।’

পোস্টারে ছেয়ে গেছে ময়মনসিংহ শহর

এদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম জানান, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদসহ চলতি উপজেলা নির্বাচন যেভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাতে দল মনে করে এরকম নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। নির্বাচনি পরিবেশ যদি কোনও দিন এদেশে ফিরে আসে এবং দেশের মানুষ যদি তাদের ভোটাধিকার ফিরে পায় তখন হয়তোবা দল নির্বাচনে যাওয়ার কথা ভাববে।’

গণফোরামের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে কেন্দ্রীয় নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে দল অংশ নেবে না। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও রাতের বেলায় ভোট দিয়ে যেভাবে বাক্স ভরে ফেলা হচ্ছে এ ধরনের নির্বাচনে যাওয়ার কোনও অর্থই নেই। একতরফা নির্বাচনের কারণে জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়াও ছেড়ে দিয়েছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনও উৎসবমুখর হবে না।’

এদিকে ভোটাররাও বলছেন সব দল অংশ না নিলে সিটি নির্বাচন উৎসবমুখর হবে না। চরপাড়া এলাকার ভোটার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রথমবারে মতো সিটি নির্বাচন হচ্ছে ময়মনসিংহে। এতে সব দল অংশ নিলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসতে পারে। সারা দেশে উপজেলা নির্বাচনে সব দল অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। এরকম নির্বাচনের কারণে জনগণ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ হারাচ্ছে।’

সাবেক ২১টি ও নতুন সম্প্রসারিত ১২টিসহ ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ৯০.১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২ হাজার ১০৯ জন। ময়মনসিংহ পৌরসভাকে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর এটিই হচ্ছে প্রথম নির্বাচন।

 

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ