‘অখনও ধান কাটার মানুষ পাওয়া যায় না, বৈশাখে কিতা অইবো’

Send
হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত : ১৮:১৫, এপ্রিল ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৯, এপ্রিল ১২, ২০১৯

হাওরে ধান‘অখনও ধান কাডনের মানুষ পাওয়া যায় না, বৈশাখ মাসো কিতা অইবো। গেলবারও ৫০০ টাকা রোজ কামলা ধইরা ধান কাটাইছি। এইবার কী করুম?’ এভাবেই  হাওর এলাকায় ধান কাটার শ্রমিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন  জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের কৃষক সিদ্দেক মিয়া।

শুধু সিদ্দেক মিয়া নন হাওর এলাকার বেশিরভাগে কৃষকই ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কথা বলেছেন।

একই গ্রামের হোসেন আলী বলেন, ‘আগে চৈত মাসো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারি ভাগালুরা হাওর এলাকায় আইতো। গেল ১৫/২০ বৎসর যাবৎ কোনও হাওরে বিদেশি ভাগালু পাওয়া যায় না। গ্রামের লোকেরা মিলেমিলে দল বেধে ধান কাটে।’

হাওরের জমিতে কৃষকরামধ্যনগর থানার শালদিঘা গ্রামের কৃষক অরিবিন্দু বলেন, ‘হাওরে বজ্রপাতের সময় ধান কাটার শ্রমিক সংকটের অন্যতম কারণ এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বালি পাথর কোয়ারিতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে এজন্য হাওরে ধান কাটার লোকের অভাব হয়।’ 

তাহিরপুর উপজেলার মধ্য তাহিরপুর গ্রামের জুবেল মিয়া বলেন, ‘অখন মাত্র হাওরে ধান কাটা শুরু অইছে। সপ্তাহখানেক পরে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু অইবো। তখন গিরস্তের অবস্থা কী অইবো?’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, ‘প্রতি বছর এসময় ধান কাটার শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হয়। কৃষক চড়াদাম দিয়ে রোজিনা কামলা মাধ্যমে জমির ধান কাটান। এ অবস্থা দূর করতে হলে প্রতিটি গ্রামের ধান কাটার মেশিন দেওয়া প্রয়োজন।’ তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘সব হাওরে একযোগে ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এজন্য কৃষি অফিসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে গেলবারের মতো এবছরও মজুরি দিয়ে জমির ধান কাটতে হবে কৃষকদের। এজন্য ধান কাটার মেশিন আরও সহজলভ্য করা উচিত।’

হাওরের জমিতে কাঁচা-পাকা ধানসুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় ৯৫টি হাওর রয়েছে। এসব হাওরের ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।  আবাদকৃত জমিগুলোতে এখন কাঁচা আধাপাকা ও পাকা ধান রয়েছে। আর কয়েকদিন পর জেলার সবকটি হাওরে বোরো ধান কাটে ঘরে তোলার মৌসুম শুরু হবে। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে এখনও অনেক কৃষক দিশেহারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বশির আহমদ সরকার বলেন, বোরো মৌসুমে সব হাওরে একযোগে ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। কৃষি বিভাগ অন্যান্য সময়ের মতো এবারও কিছু  এলাকায় ধান কাটার মেশিনের ব্যবস্থা করেছে। তবে এ সংকট সরকারের একার পক্ষ্যে দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য এলাকার ধনী কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ভালো মানের ধান কাটার মেশিন কিনতে পারেন। এতে তারা নিজেরা যেমন উপকৃত হবে পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কৃষকরাও উপকৃত হবেন।

 

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ