১৭শ’ টাকায় প্রাইভেটকার ভাড়া করে খুনিরা

Send
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ০৯:৩৬, এপ্রিল ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫২, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

গ্রেফতার তিন আসামিপ্রাইভেটকার হাতিয়ে নিতে চালক নুরুল গনি শিমুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এজন্য ১৭শ’ টাকায় সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে প্রাইভেটকারটি ভাড়া করা হয়। গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে এমন তথ্য দিয়েছেন বলে জানান আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন।

এর আগে শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে শিমুলকে সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে আসার পথে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজন এবং পরে অভিযান চালিয়ে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করে।শিমুল সীতাকুণ্ড উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার আবুল কালামের একমাত্র ছেলে।

জসীম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসামিরা প্রাইভেটকারটি হাতিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে চালক শিমুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ জন্য তারা চমেক হাসপাতালে এক রোগীকে রক্ত দেওয়ার কথা বলে ১৭শ’ টাকায় প্রাইভেটকারটি ভাড়া করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে রবিউল হোসেন ইমন পেশায় প্রাইভেটকার চালক। সেই পরিচয় দিয়ে প্রাইভেটকারটি ভাড়া করে। প্রাইভেটকারটির পেছনের সিটে ইমন, নিশান ও নেওয়াজ শরীফ বসা ছিল। তাদের (আসামিদের) বক্তব্য অনুসারে প্রথমে ইমন পেছন থেকে শিমুলকে রশি দিয়ে তার গলা বেঁধে শ্বাসরোধ করে। এসময় চালকের পাশে বসা জসিম উদ্দিন নিশান তার হাত ধরে রাখে। পরে শিমুল দুর্বল হয়ে গেলে দুই নিশান ও নেওয়াজ মিলে তাকে পেছনের সিটে নিয়ে যায়। ইমন এসে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি চালায়। অন্যরা শিমুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে।’

জসীম উদ্দিন বলেন, ‘শিমুলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার মরদেহ বেঁড়িবাধ এলাকায় ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ততক্ষণে তারা সিটি গেইট এলাকায় চলে আসে। তখন তারা চিন্তা করলো যদি টোল রোড  দিয়ে যায়, তবে চেকপোস্টে পুলিশের সামনে পড়তে পারে। এ জন্য তারা চিন্তা করলো ভেতরের রোড দিয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে বেড়িবাঁধ এলাকায় যাবে। এই পরিকল্পনা মোতাবেক তারা প্রাইভেটকারটি ঈশান মহাজন রোডে প্রবেশ করায়। পরে তারা গলি ভুল করে ভিন্ন একটা গলিতে ঢুকে যায়। কিছুদূর যাওয়ার পর একটি মন্দিরের কাছে চলে যায়। সেখান থেকে ব্যাক করার সময় একটা ড্রেনে প্রাইভেটকারের একটি চাকা পড়ে যায়। পরে ওই চাকা তুলতে গিয়ে জোরে পিকআপ দেওয়ায় গাড়িটি গিয়ে স্থানীয় একজন নারী কাউন্সিলরের গায়ে লাগে। পরে তিনি বকা দিয়ে গিয়ে দেখেন গাড়িতে লাশ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা এসে তাদের ধরতে গেলে গাড়ি থেকে নেমে চারজন দৌঁড় দেয়। এসময় স্থানীয়রা ইমন ও নিশানকে আটক করে পিটুনি দেয়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন কসমোপলিটন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নেওয়াজকে আটক করা হয়। ওই বাসায় অপর আসামি জসিম উদ্দিন নিশানও থাকেন। অল্পের জন্য আমরা তাকে আটক করতে পারিনি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় শিমুলের বাবা আবুল কালাম চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তিন আসামিকে আমরা কারাগারে পাঠিয়েছি।

আটক তিনজনের মধ্যে রবিউল হোসেন ইমন পেশায় প্রাইভেটকার চালক। তার গ্রামের বাড়ি সীতাকুণ্ড এলাকায়। সে আগে থেকে নিহত শিমুলকে চিনতো। অন্য দুইজনের মধ্যে নিশান নগরীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র। অপরজন নেওয়াজ শরীফ নিশানের পূর্ব পরিচিত।

শিমুলের বাবা আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার আর কোনও ছেলে নেই। শিমুল আমার একমাত্র সন্তান ছিল। আমরা গরীব মানুষ আমি অটোরিকশা চালাই, সে প্রাইভেটকার চালাতো। আমাদের সঙ্গে কারো কোনও শত্রুতা ছিল না। কাল রাত ৯টার দিকে সে আমাকে কল করে বলে ভাড়া নিয়ে চমেক হাসপাতাল যাচ্ছে। এরপর তার আর কোনও খবর পাইনি। পরে রাত ১১টার দিকে জানতে পারি তাকে খুন করা হয়েছে।’

আবুল কালাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘যারা আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করে সন্তানহারা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তাদের ফাঁসির চাই।’

আরও পড়ুন- চালককে খুন করে লাশ সাগরে ফেলতে যাওয়ার সময় আটক ২

/এসএসএ/

লাইভ

টপ