সুনামগঞ্জে ঝড়-শিলাবৃষ্টি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

Send
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯:৪৩, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৪, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বোরো ফসল ও বর্ষাকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সোমবার উপজেলার পাথারিয়া, শিমুলবাঁক, পূর্ব বীরগাঁও ও দরগাপাশা ইউনিয়নের ওপর দিয়ে দমকা বাতাসসহ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘সোমবার সকালে প্রায় ২০ মিনিট কালবৈশাখী ঝড় সহকারেটি ইউনিয়নের জামখোলা, গাজীনগর, আসামমোড়া, রাধারবাড়ি ও হলিদাকান্দা হাওরের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। প্রচণ্ড বাতাস ও শিলাবৃষ্টির কারণে জমির পাকা ধানের (ব্রি ২৮ ধান ও হাইব্রিড) ব্যাপক ক্ষতি হয়। শিলাবৃষ্টিতে পাথারিয়া ইউনিয়নের ১১০ হেক্টর, শিমুলবাঁক ইউনিয়নের ১১০ হেক্টর, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ১১০ হেক্টর ও দরগাপাশা ইউনিয়নের ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আক্রান্ত জমির ৫০ ভাগ ধান জমিতে ঝরে পড়েছে।
গাজীনগর গ্রামের কৃষক জানান, হাওরের জমির ধান গাছ বাতাসে নুয়ে পড়েছে। আক্রান্ত জমির ধান গাছ থেকে ধান জমিতে ঝরে পড়েছে।
নগর গ্রামের কৃষক ধনীন্দ্র তালুকদার জানান, শিলাবৃষ্টি কম সময় হলেও প্রচণ্ড বাতাসে ২৮ ধানের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। আক্রান্ত জমির ধান কাটা যাবে না।
পাথারিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা টিটু তালুকদার বলেন, ‘ঝড়ো বাতাস ও দমকা হাওয়ার কারণে পাকা জমির ৫০ ভাগ ধান জমিতেই ঝরে পড়ে।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য কৃষকদের জমির ধান ৭০ ভাগ থেকে ৭৫ ভাগ পেকে গেলে কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া জমির আইলে গাছ লাগানোর পরার্মশসহ কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিতে ধান লাগানোর কথা বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্রি-২৮ ও হাইব্রিড ধান হাওরে চাষাবাদেও অনুপোযাগী, কারণ এসব জাতের ধান অল্প বাতাস ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিলাবৃষ্টিতে যেসব ধান গাছে চাল ধরেছে সেসব জমির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ সরকার বলেন, ‘শিলাবৃষ্টির পরপরই উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।’

/এআর/

লাইভ

টপ